দেড় দশকে রাঙ্গামাটিতে হাতির তাণ্ডব: প্রাণ গেল ৩৬ জনের
অনলাইন ডেস্ক
রাঙ্গামাটির পাহাড়ি বনে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে আজও শোনা যায় পাতার খসখসানি। কখনও মনে হয়, বনের পুরোনো কোনো পথ ধরে একদল হাতি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। কিন্তু সেই দৃশ্য আজ প্রায় বিরল। যে রাঙ্গামাটি একসময় ছিল বন্য হাতির নির্ভরযোগ্য আবাস, আজ সেখানে মানুষের তৈরি বাধা যত বেড়েছে—হাতির বিচরণ ততটাই সংকুচিত হয়েছে।
এশিয়ান বন্যহাতি পৃথিবীর সবচেয়ে সংকটাপন্ন প্রাণীগুলোর একটি। বাংলাদেশের হাতে গোনা কয়েকটি বিচরণক্ষেত্রের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে তাদের টিকে থাকার মূল ভরসা। বিশেষ করে রাঙ্গামাটি—যেখানে হাতির দল কখনো পাহাড়ি রিজার্ভ বন, কখনো বাঁশঝাড়, তো কখনো কাপ্তাই হ্রদের পাড় ধরে ঘুরে বেড়াত। কিন্তু সেই স্বাভাবিক জীবন এখন ক্রমেই ভেঙে পড়ছে।
বন উজাড়—এক নিঃশব্দ বিপর্যয়ের গল্প
পাহাড়ের পাদদেশে একের পর এক নতুন বসতি, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, রাস্তা—সব মিলিয়ে হাতির প্রাকৃতিক করিডোর প্রায় নিশ্চিহ্ন। যেখানে হাতির থাকা উচিত সেখানে আজ মানুষের ঘরবাড়ি, ছোটখাটো দোকান, বিদ্যুতের লাইন—সব মিলিয়ে এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে যা হাতির কাছে প্রাণঘাতী।
বন উজাড়ের সঙ্গে সঙ্গে কমেছে খাদ্যের উৎস। ফলজ গাছ, বাঁশঝাড়, আর প্রাকৃতিক লতাগুল্ম—সবকিছু উধাও হয়ে যাওয়ায় হাতিরা বাধ্য হয়ে নেমে আসছে লোকালয়ে। আর তাতেই শুরু হয়েছে হাতি–মানুষের দ্বন্দ্ব।
গত দেড় দশকে রাঙ্গামাটিতে হাতির আক্রমণে মারা গেছেন ৩৬ জন মানুষ। কিন্তু মানুষও প্রতিশোধ নিয়েছে নির্মমভাবে—বৈদ্যুতিক ফাঁদ, গুলি, ফাঁদ পেতে হত্যা… এসব কারণে মারা গেছে ১৩টি বন্য হাতি।
হাতির মৃত্যু: প্রতিটি গল্পেই বেদনার ছাপ
হাতি মারা গেলে শুধু একটি প্রাণের মৃত্যু হয় না; ভেঙে যায় একটি পরিবার। ২০১২ সালে কর্ণফুলী রেঞ্জে প্রসবকালীন মৃত্যু হয় এক মা হাতির। পরে দেখা যায়, তার শাবকটি ছিল কাছেই—ক্ষুধায় কাঁদছিল, দিশেহারা।
২০১৫ সালে বৈদ্যুতিক তারে ঝলসে মারা যায় দুইটি হাতি। স্থানীয়রা বলেছিলেন—রাতে ফসলি মাঠে এসেছিল হাতিরা; আর মানুষ বাঁচতে ফেলে রেখেছিল ইলেকট্রিক ফাঁদ।
২০২৫ সাল ঘিরে আসে আরও এক বেদনাদায়ক ঘটনা—কাপ্তাই হ্রদে পড়ে মারা যায় এক নয় মাস বয়সী শাবক। যে জলাধার একসময় ছিল হাতিদের পানির উৎস—আজ তা হয়ে উঠেছে মৃত্যুকূপ।
মানুষের ভয়—হাতির ক্ষুধা
লোকালয়ে নামার পর হাতিরা কখনো ভেঙে দেয় রান্নাঘর, কখনো লন্ডভন্ড করে ফসল। পাহাড়ের ছোট ঘরগুলোর মানুষ এমন হামলাকে ভয় পায়, কারণ এতে পরিবার হারানোর আশঙ্কা থাকে। একদিকে ক্ষুধার্ত হাতি, অন্যদিকে ক্ষুব্ধ মানুষ—ফলে সংঘর্ষটাই যেন অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে।
পরিবেশবিদরা বলছেন—“হাতি দোষী নয়; দোষ মানুষের দখলে নেওয়া বনে।”
সমাধান কোথায়?
রাঙ্গামাটি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মো. তবিবুর রহমান মনে করেন, পরিস্থিতি পাল্টাতে হলে বন পুনরুদ্ধারই প্রথম শর্ত।
“আমরা হাজার হাজার দুর্লভ গাছের চারা রোপণের প্রকল্প হাতে নিয়েছি,”—তিনি বললেন। “এটি সফল হলে হাতির করিডোর আবার বাড়বে, কমবে সংঘর্ষ। মানুষকে আমরা পরামর্শ দিচ্ছি—হাতি ফসল নষ্ট করলে যেন আক্রমণে না যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দিতে বন বিভাগ প্রস্তুত।”
পরিবেশবাদীদের মতে,
- হাতির করিডোর রক্ষা,
- পাহাড়ে নতুন বসতি নিয়ন্ত্রণ,
- বনভূমি পুনরুদ্ধার,
- এবং দ্রুত ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা—এসব না হলে সংঘর্ষ আরও বাড়বে।
হাতির শেষ লড়াই
রাঙ্গামাটির গভীর বনে এখনও টিকে আছে হাতির কয়েকটি পাল। তারা এখনও প্রতিদিন তাদের পুরোনো পথ মনে করে হাঁটতে চায়—যদিও পথের মাঝেই এখন মানুষ। বনের ক্ষত অল্প নয়, কিন্তু সঠিক পদক্ষেপ নিলে এই ক্ষত সারানো সম্ভব।
এক পরিবেশকর্মীর ভাষায়—
“হাতি বাঁচলে বন বাঁচবে, আর বন বাঁচলে মানুষও বাঁচবে।”
রাঙ্গামাটির পাহাড়ে আজ এই সত্যটাই সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট।
হুক ছিঁড়ে লাউয়াছড়ায় ৬ বগি ফেলে গেল পাহাড়িকা এক্সপ্রেস
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের হুক ছিঁড়ে ছয়টি বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে বগিগুলো লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে রেখে বাকি বগি নিয়ে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে চলে যায় ট্রেনটি। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকায়
১২ ঘন্টা আগে
অপারেশন ক্লিন হার্ট চালানোর পরিকল্পনা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আলাদা কোনো যৌথ বাহিনী গঠন বা ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কোনো অভিযান চালানোর পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তরের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১ দিন আগে
২৩৫ ইউনিটের বিদ্যুৎ বিল ৫০৬ কোটি টাকা, শোকজ ৪ কর্মকর্তা
মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার ‘ভুতুড়ে বিল’ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের এ ভুলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডিজিএমসহ চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের...
৩ দিন আগে
‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে’
‘আমার বাবা ভালো বাবা, তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপবাদ দেওয়া হয়েছে’—কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেলছিল বরিশালের উজিরপুরের বামরাইলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী তুবা বিনতে অরণি। বাবার সঙ্গে কোনো অন্যায় না হোক, তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন-এই প্রত্যাশায় সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাবাকে তিন মাসের জন্য বিদায় জানায় ছোট্ট তুবা।গত শনিবার মধ্যরাতে চুরির...
৪ দিন আগে
