রাজনীতি

এনসিপির জোট ভাবনা: একজন তৃণমূল কর্মীর চোখে বাস্তবতা

লেখক:মো. তৌফিক নিয়াজ

৯ মাস আগে


এনসিপির জোট ভাবনা: একজন তৃণমূল কর্মীর চোখে বাস্তবতা

এনসিপির জোট রাজনীতি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। দলীয় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে তৃণমূলের ওপর। অথচ বাস্তবতা হলো—তৃণমূলকে উপেক্ষা করে কখনোই একটি রাজনৈতিক দল টেকসইভাবে দাঁড়াতে পারে না। এনসিপির উচিত সারা দেশের জেলা প্রধান ও সদস্য সচিবদের নিয়ে একটি বিস্তৃত বৈঠকে বসে তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে জোট সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। বিষয়টি বহু আগেই কেন্দ্রকে জানানো হলেও বাস্তবে তেমন কার্যকর উদ্যোগ এখনো চোখে পড়েনি।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও আড্ডার অভিজ্ঞতা থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার—জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোট ভবিষ্যতে এনসিপির জন্য নানাদিক থেকেই তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হতে পারে। জামায়াত একটি আদর্শিক দল, যেখানে সাংগঠনিক কাঠামো শক্ত এবং হঠাৎ করে কেউ প্রবেশ করে বড় পদ-পদবি নেওয়ার সুযোগ নেই। এই বাস্তবতায় এনসিপি একটি মধ্যমপন্থী, জনগণমুখী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারবে।
এনসিপি মূলত মধ্যমপন্থী রাজনীতি করে, অন্যদিকে জামায়াত বর্তমান ধারায় মধ্যম ডানপন্থী রাজনীতির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে। ফলে আদর্শিক দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও একটি নির্বাচনী সমঝোতা সম্ভব, যেখানে এনসিপি তার রাজনৈতিক স্বকীয়তা অক্ষুণ্ন রাখতে পারবে।
অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন—জামায়াত এনসিপিকে ডমিনেট করবে। কিন্তু তৃণমূলের পর্যবেক্ষণ বলছে, বাস্তবে উল্টোটা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতের তুলনামূলক ‘ক্লিন ইমেজ’ এবং আন্তর্জাতিক চাপের বাস্তবতা তাদের একটি মধ্যমপন্থী শক্তিকে পাশে রাখার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনে জামায়াত জিতলেও আন্তর্জাতিক মহল ও ভারতের চাপ থাকবে—এই বাস্তবতায় এনসিপিকে সঙ্গে নিয়ে মধ্যমপন্থী রাজনীতির দিকেই যেতে হবে। এতে জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা এনসিপির হাতেই থাকবে বলে তৃণমূল মনে করে।
নির্বাচনী জোট আদর্শিক জোট নয়—এখানে মুখ্য বিষয় হলো ফলাফল। জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে এনসিপির প্রতিদ্বন্দ্বী আসনগুলোতে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার সম্ভাবনা কম থাকবে। কিন্তু বিএনপির ক্ষেত্রে এই নিশ্চয়তা নেই। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, বিএনপি জোটসঙ্গীদের আসনে নীরব সমর্থন বা বিদ্রোহী প্রার্থী দিয়ে জটিলতা তৈরি করেছে। এতে জোট প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার ক্ষেত্রে নিজ দলের বঞ্চিত নেতাকর্মীদের অনীহাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে ত্যাগী ও অবমূল্যায়িত বিএনপির বহু নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। জামায়াতের সঙ্গে জোট হলে তারা এনসিপিতে এসে মধ্যমপন্থী রাজনীতি করতে পারবে। কারণ জামায়াতের কট্টর সাংগঠনিক কাঠামোতে গিয়ে বড় পদে যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, আবার বিএনপির বর্তমান দুর্নীতিনির্ভর রাজনীতিতেও তারা হতাশ। এই বাস্তবতায় এনসিপিই হয়ে উঠতে পারে সৎ ও মধ্যমপন্থী রাজনৈতিক শক্তির প্রধান আশ্রয়স্থল।
এনসিপি গঠনের সময় জামায়াতপন্থী একটি অংশ বেরিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে দলে থাকা এক্স-বিএনপি ও গণঅধিকার ঘরানার অনেক নেতাকর্মী বিএনপির সঙ্গে জোটের ঘোর বিরোধী। তাদের যুক্তি স্পষ্ট—যদি বিএনপির সঙ্গেই জোট করতে হয়, তবে এনসিপি করার প্রয়োজনই বা কী ছিল? এই মনোভাবের কারণে বিএনপির সঙ্গে জোট হলে দল ছাড়ার আশঙ্কাও তৃণমূলে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।
বাস্তবতা হলো, এনসিপি একটি সদ্য গঠিত দল। এককভাবে ৩০০ আসনে নির্বাচন করার মতো সাংগঠনিক শক্তি ও জনবল এখনো তৈরি হয়নি। পোলিং এজেন্ট দেওয়াই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে একক নির্বাচন দলটির জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। একটি নতুন দলের জন্য জোট ছাড়া নির্বাচন করে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই দল গঠনের সবচেয়ে কার্যকর পথ—এটি ভুল কোনো ধারণা নয়।
তৃণমূলের হিসাব অনুযায়ী, একটি নতুন দল হিসেবে আপার হাউজে পাঁচটি আসন পেলেও সেটি এনসিপির জন্য বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে। মাত্র আট মাসের একটি দলের জন্য এটি কোনোভাবেই ছোট সাফল্য নয়। আগামী পাঁচ বছরে নীতি ও আদর্শে অবিচল থাকলে এনসিপি সারাদেশে শক্তিশালীভাবে সংগঠিত হবে—এই বিশ্বাস তৃণমূলের রয়েছে।
জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থী তৈরি করাই এনসিপির জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত কৌশল। এতে ভবিষ্যৎ জাতীয় নির্বাচনের জন্য দলীয় শক্তির একটি প্রমাণিত ভিত্তি তৈরি হবে।
এনসিপি কট্টর ধর্মীয় রাজনীতি করে না। তাই শুধুমাত্র নির্বাচনী সমঝোতা হলে আদর্শিক অবস্থানে কোনো বিচ্যুতি ঘটবে না। বরং সময় ও চাপহীন একটি শক্তিশালী জোট দলটির বিকাশে সহায়ক হবে। তৃণমূলের পর্যবেক্ষণে, বিএনপির সঙ্গে জোট আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে, আর ইসলামী আট দল বা জামায়াতের সঙ্গে জোট তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত।
বিএনপির দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও গ্রুপিংয়ের দায় নেওয়ার চেয়ে জামায়াতের সঙ্গে জোট করাই এনসিপির জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ। অতীতের ভুল স্বীকার ও ক্ষমা চাওয়ার কারণে বর্তমান প্রজন্মের কাছে জামায়াত নিয়ে নেতিবাচকতা আগের মতো তীব্র নয়। জুলাই আন্দোলন, সংস্কার ও বাংলাদেশপন্থী রাজনীতির প্রশ্নে এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের দূরত্বও তুলনামূলকভাবে কম।
সবশেষে বলতে চাই—দলের হাইকমান্ড এককভাবে সিদ্ধান্ত নিলে হয়তো দীর্ঘমেয়াদে লাভ হতে পারে, কিন্তু ততদিনে তৃণমূলকে ধরে রাখা যাবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। একটি নতুন দলের জন্য ক্ষমতার বাইরে রেখে দীর্ঘদিন কর্মীদের সক্রিয় রাখা অত্যন্ত কঠিন।
তৃণমূলের অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি—এনসিপির জন্য জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোট লং-টার্মে দল গঠনের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। আর বিএনপির সঙ্গে জোট হলে তা দলটির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি ডেকে আনবে।
এই লেখাটি যুক্তিনির্ভর ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে বিবেচনার অনুরোধ রইল। কোনো ভুল ধারণা থাকলে যুক্তি দিয়ে সংশোধনের সুযোগও সানন্দে গ্রহণ করবো।


বিতর্কিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপির কঠোর অবস্থান
বিতর্কিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিএনপির কঠোর অবস্থান

দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, জমি দখল, ভাঙচুর, সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া জোরদার করেছে বিএনপি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দলীয় পদ বা প্রভাব বিবেচনা না করে বহিষ্কার, পদ স্থগিত, অব্যাহতি কিংবা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন...

১ ঘন্টা আগে


রাড্ডা ভাঙচুরে জড়িতদের কঠোর শা'স্তি চান শফিকুর রহমান
রাড্ডা ভাঙচুরে জড়িতদের কঠোর শা'স্তি চান শফিকুর রহমান

রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের পর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ...

৯ ঘন্টা আগে


‘শফিকুর রহমান গাজী নজরুলকে পদত্যাগ করালে মরিয়মকে মরতে হতো না’
‘শফিকুর রহমান গাজী নজরুলকে পদত্যাগ করালে মরিয়মকে মরতে হতো না’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সংসদ সদস্য হওয়া গাজী নজরুল ইসলামকে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান পদত্যাগে বাধ্য করলে ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যু এড়ানো যেত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন।বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য...

৯ ঘন্টা আগে


অপরাধীকে বিএনপি প্রশ্রয় দেয় না, আবারও প্রমাণিত
অপরাধীকে বিএনপি প্রশ্রয় দেয় না, আবারও প্রমাণিত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান রাশেদ খান।পোস্টে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। বিএনপি কোনো অপরাধীকে

১০ ঘন্টা আগে

Dr.Mahfuzul Alom