শিক্ষা

‘কৃতী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি নিরাপদ রাখব’: সাদিক কায়েম

অনলাইন ডেস্ক

১ মাস আগে


‘কৃতী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি নিরাপদ রাখব’: সাদিক কায়েম

ছবি: সংগৃহীত


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি আমরা। কৃতী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে নিরাপদ রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সাদিক কায়েম বলেন, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য গত ৫৫ বছর ধরে সংগ্রাম চলছে। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে অসংখ্য নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। অনেকে আমলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি হয়েছেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিতভাবে দেশের মানুষের মুক্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত হয়নি।

তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবে শহীদ আনাসের মতো ১৩৩ জন শিশু জীবন দিয়েছে এবং ১ হাজার ৪০০-এর বেশি আমাদের ভাই-বোন জীবন দিয়েছেন। তাদের আত্মত্যাগের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে নতুনভাবে পুনর্গঠন করা।’

আজকের কৃতী শিক্ষার্থীদের হাত ধরে সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের আগামী দিনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

‘জীবনের সফলতা ভালো মানুষ হতে পারা’

কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডাকসু ভিপি বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা বা বড় পদে যাওয়া জীবনের প্রকৃত সফলতা নয়। একজন ভালো মানুষ হতে পারাই জীবনের বড় সফলতা।

তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী এসএসসি বা এইচএসসিতে এ প্লাস কিংবা গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে দেশের বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। পরে তারা সরকারি আমলা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এমনকি প্রধানমন্ত্রীও হয়েছেন। কিন্তু সবাই দেশের মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারেননি।

গত ১৬ বছরের শাসনামলের সমালোচনা করে সাদিক কায়েম বলেন, যারা এমপি-মন্ত্রী ছিলেন, তাদের কেউ কেউ মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময়ে মানুষকে গুলি করে হত্যা, আয়নাঘর তৈরি এবং শিশু হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব কারণে ওই সময়ের নেতৃত্বকে মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘রাজনীতিবিদ মানেই দুর্নীতিবাজ-এ ধারণা পরিবর্তন করতে হবে’

দেশের রাজনীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া নেতিবাচক ধারণার সমালোচনা করেন সাদিক কায়েম।

তিনি বলেন, বর্তমানে অনেকের কাছে ‘রাজনীতিবিদ মানে দুর্নীতিবাজ’-এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে দেশ থেকে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে বিভিন্ন রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে।

তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সাবেক দুই মন্ত্রী শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদের নাম উল্লেখ করেন।

সাদিক কায়েমের দাবি, তারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। সততা, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে কথা ও কাজের মিল রেখে নেতৃত্ব দিতে পারলে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চেহারা পরিবর্তন করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

‘নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠা করেছি’

জুলাই বিপ্লবের পর নতুন ধারার ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে ডাকসু ভিপি বলেন, ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস, গণরুম ও গেস্টরুমকেন্দ্রিক রাজনীতির অবসান ঘটানোর কথা তারা বলেছিলেন।

তিনি বলেন, তারা সুস্থ ধারার ছাত্ররাজনীতি প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সেই পরিবর্তনের উদাহরণ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।

ডাকসুসহ পাঁচটি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর আস্থা রেখেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সাদিক কায়েম বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিষয়ে কাজ করেছেন। বিশেষ করে ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মৌলিক সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আবাসন, খাবার, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবায় কাজের দাবি

শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, খাদ্য সমস্যা, পরিবহন সংকট, স্বাস্থ্যনিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মতো বিষয়গুলোতে কাজ করার চেষ্টা করেছেন বলে জানান ডাকসু ভিপি।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরাই তাদের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করছেন এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে তারা মনে করেন।

ভাঙা ক্যাম্পাস ও ভাঙা সামাজিক কাঠামোকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সাদিক কায়েম বলেন, তারা একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন।

তিনি বলেন, ‘তোমাদেরকে সঙ্গে নিয়ে এই বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি মাটিকে নিরাপদ রাখব, ইনশাআল্লাহ।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।

এ ছাড়া ছাত্রশিবিরের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, কৃতী শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকেরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


মধ্যরাতে ছয় ছাপাখানা পরিদর্শনে শিক্ষামন্ত্রী
মধ্যরাতে ছয় ছাপাখানা পরিদর্শনে শিক্ষামন্ত্রী

আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই ছাপানোর অগ্রগতি ও গুণগত মান যাচাই করতে রাজধানীর ছয়টি ছাপাখানা পরিদর্শন করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর এসব ছাপাখানা পরিদর্শন করেন তিনি।মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।পরিদর্শনকালে শিক্ষামন্ত্রী ছাপাখানাগুলোতে প্রস্তুত...

১ দিন আগে


স্নাতক শেষ করেই বিজেএসে সাফল্য, ঢাবির ১০ শিক্ষার্থী সিভিল জজ হওয়ার পথে
স্নাতক শেষ করেই বিজেএসে সাফল্য, ঢাবির ১০ শিক্ষার্থী সিভিল জজ হওয়ার পথে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের ১০ শিক্ষার্থী ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সিভিল জজ পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন মেধাক্রমে চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও ত্রয়োদশ স্থান অর্জন করেছেন।বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলে তাদের এই সাফল্য আসে। স্নাতক শেষ করেই...

৫ দিন আগে


ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বুধবার
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বুধবার

দেশের আকাশে গত শনিবার রবিউস সানি মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সেই হিসাবে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সারাদেশে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালিত হবে। দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক দিনের ছুটি থাকবে।শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে বিদ্যালয় ও কলেজে পাঠদান বন্ধ থাকবে। তবে

৭ দিন আগে


কওমি মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক-মানসিক নির্যাতন নিষিদ্ধ
কওমি মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের শারীরিক-মানসিক নির্যাতন নিষিদ্ধ

দেশের কওমি মাদরাসাগুলোতে শিক্ষার্থীদের ওপর যেকোনো ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কওমি মাদরাসাভিত্তিক সর্বোচ্চ শিক্ষা বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। একই সঙ্গে ছয়টি কওমি মাদরাসা বোর্ড ও তাদের অধিভুক্ত সব প্রতিষ্ঠানে আগামী সাত দিনের মধ্যে ‘ছাত্র-ছাত্রী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন ও কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।শনিবার...

৮ দিন আগে

Dr.Mahfuzul Alom