রাজনীতি

ফ্যাসিবাদী শাসনে ডিজিটাল রূপান্তরের নামে হাজার কোটি টাকা লুটপাট: শ্বেতপত্র

অনলাইন ডেস্ক

৮ মাস আগে


ফ্যাসিবাদী শাসনে ডিজিটাল রূপান্তরের নামে হাজার কোটি টাকা লুটপাট: শ্বেতপত্র

ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রীয় অর্থ লোপাটের নানা চিত্র উঠে এসেছে সদ্য প্রকাশিত আইসিটি খাতসংক্রান্ত শ্বেতপত্রে। ডিজিটাল রূপান্তরের নামে সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি ও ব্যক্তি-পূজার কার্যক্রম বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের একটি সুবিধাভোগী চক্র বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ৪৭২ পৃষ্ঠার এই শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন এবং সিআরআইয়ের মাধ্যমে ‘মুজিব ভাই’ চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ২১১ কোটি ২২ লাখ টাকা। একইভাবে ‘খোকা’ সিনেমা নির্মাণের নামে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১৬ কোটি টাকা। এসব ব্যয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কোনো কাঠামোগত সমস্যা সমাধানে কতটা ভূমিকা রেখেছে, নাকি মূলত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ইমেজ নির্মাণে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহৃত হয়েছে—তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে শ্বেতপত্র কমিটি।

শ্বেতপত্রের ১৩টি অধ্যায়ে আইসিটি অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, এটুআইসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, সিন্ডিকেশন ও আর্থিক লুটপাটের দলিলভিত্তিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাস্তব চাহিদা ও সক্ষমতা বিশ্লেষণ ছাড়াই দেশের বিভিন্ন স্থানে হাই-টেক পার্ক ও আইটি ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। বহু প্রকল্প কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকলেও শতভাগ বিল উত্তোলন করা হয়েছে। কোথাও প্রশিক্ষক নেই, কোথাও প্রশিক্ষণার্থী নেই—তবুও অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছে নিয়মিত। ১২টি আইটি পার্ক, ডিইইআইডি, ইডিসি, আইডিয়া প্রকল্প এবং ফোর-টায়ার ডাটা সেন্টারসহ একাধিক মেগা প্রকল্পে অযৌক্তিক ব্যয়, স্বজনপ্রীতি ও সিন্ডিকেশনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

শ্বেতপত্রে আরও বলা হয়, আইটি ট্রেনিং, ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্স খাতে বাস্তবায়িত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলোতেও দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক প্রভাব ছিল স্পষ্ট। ফ্রিল্যান্সিং প্রকল্পের আওতায় ল্যাপটপ বিতরণের ক্ষেত্রেও ‘আওয়ামীবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন’—এমন নিশ্চয়তা পাওয়ার পর নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।

লানিং অ্যান্ড আর্নিং ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলইডিপি)-এ জাল প্রশিক্ষক নিয়োগ, একই ধরনের প্রশিক্ষণ বারবার দেখিয়ে বিল উত্তোলন এবং বাস্তব দক্ষতা অর্জন ছাড়াই সনদ বিতরণের ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে যাদের প্রশিক্ষক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তাদের আইটি বা ফ্রিল্যান্সিং বিষয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ছিল না। একই ব্যক্তিকে একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষক হিসেবে দেখানোর ঘটনাও চিহ্নিত হয়েছে।

শ্বেতপত্রের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে আইসিটি খাতকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী সুবিধাভোগী চক্র নীতিনির্ধারণে অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করেছে। এর ফলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং দেশীয় আইটি শিল্পের বড় একটি অংশ রাষ্ট্রীয় সহায়তা ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। কাগজে-কলমে হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার তৈরি হলেও বাস্তবে তাদের বড় অংশই বাজারে টেকেনি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই শ্বেতপত্র কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক উদ্যোগ নয়। বরং ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই অনুসন্ধান পরিচালিত হয়েছে। আইসিটি খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, স্বাধীন অডিট ব্যবস্থা জোরদার এবং কঠোর নজরদারি প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছে শ্বেতপত্র কমিটি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা ছাড়া এই শ্বেতপত্রও অতীতের অনেক প্রতিবেদনের মতো ‘ফাইলবন্দি দলিল’ হয়ে থাকার ঝুঁকি রয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আইসিটি খাতের শ্বেতপত্র একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এতে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের প্রমাণভিত্তিক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে এটি তখনই কার্যকর হবে, যখন সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখানো হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।”

উল্লেখ্য, উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহর নেতৃত্বে গঠিত শ্বেতপত্র কমিটিতে ছিলেন—পিজিসিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেজওয়ান খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চৌধুরী মফিজুর রহমান, পারডু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মুহাম্মদ মুস্তাফা হোসেন, বুয়েটের অধ্যাপক রিফাত শাহরিয়ার, ব্যারিস্টার আফজাল জামি সৈয়দ আলী, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আসিফ শাহরিয়ার সুস্মিত এবং সাংবাদিক মো. শরিয়ত উল্লাহ।


পলাতকদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে: এমপি কয়ছর
পলাতকদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা হবে: এমপি কয়ছর

সুনামগঞ্জ-৩ (শান্তিগঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তবে দেশকে অস্থিতিশীল করতে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন তিনি।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় দেশব্যাপী পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে...

৮ ঘন্টা আগে


‘যারা রাড্ডা দখল করেছিল, তারাই এখন পরিষ্কার করছে’: আসিফ মাহমুদ
‘যারা রাড্ডা দখল করেছিল, তারাই এখন পরিষ্কার করছে’: আসিফ মাহমুদ

রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে যারা দখল করেছিল, তারাই এখন এসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘প্রথমে সর্প হয়ে দংশন করো, পরে ওঝা হয়ে ঝাড়ো’-এমন কার্যক্রম আমরা প্রত্যক্ষ করলাম।হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো রাড্ডা...

২০ ঘন্টা আগে


রাড্ডায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জামায়াতের ৫০ লাখ টাকা অনুদান
রাড্ডায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় জামায়াতের ৫০ লাখ টাকা অনুদান

আজ বিকাল ৪.৩০টায় রাজধানীর মিরপুরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, “আমাদের প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করা সহায়তা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। এটা দিয়ে শুরু, এটা শেষ...

২৩ ঘন্টা আগে


পুলিশের গাড়ির সামনে রাড্ডার সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ ফুয়াদের
পুলিশের গাড়ির সামনে রাড্ডার সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ ফুয়াদের

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে ভেঙে দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার থেকে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তাঁর দাবি, পুলিশের গাড়ির সামনেই হাসপাতালের ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতি ট্রাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে...

১ দিন আগে

Dr.Mahfuzul Alom