আইন-আদালত

সালমান-আনিসুলের মামলায় আরও ৭ সাক্ষীর জবানবন্দি নিতে প্রসিকিউশনের আবেদন

অনলাইন ডেস্ক

২৪ দিন আগে


সালমান-আনিসুলের মামলায় আরও ৭ সাক্ষীর জবানবন্দি নিতে প্রসিকিউশনের আবেদন

ছবি: সংগৃহীত


জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে আরও সাতজন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। তবে মামলার এই পর্যায়ে নতুন করে সাক্ষী হাজির করার উদ্যোগকে ‘ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা’ বলে দাবি করেছে আসামিপক্ষ।

রোববার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানি করেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আরও সাত সাক্ষীর আবেদন প্রসিকিউশনের

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, মঈনুল করিমসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।

শুনানিতে গাজী এমএইচ তামিম বলেন, সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের মামলায় আরও সাতজন অতিরিক্ত সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর আবেদনটির কপি ডিফেন্স আইনজীবীদেরও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজন সাক্ষীকে রোববার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।

আপত্তি ডিফেন্সের

অতিরিক্ত সাক্ষী নেওয়ার আবেদনের বিরোধিতা করে ডিফেন্স আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, প্রসিকিউশন আবেদন করতেই পারে। তবে আবেদনটি মঞ্জুর করা হবে কি না, সেটি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার। এ বিষয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।

তিনি বলেন, এই মামলায় ইতোমধ্যে ১১ জন সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। ফরমাল চার্জের সময় কেন এসব সাক্ষীকে আনা হয়নি, সেই প্রশ্ন রয়েছে। মামলার এই পর্যায়ে নতুন করে সাক্ষী আনা ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল।

এ সময় ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করেন, মামলার যেকোনো পর্যায়ে প্রসিকিউশন অতিরিক্ত অ্যাভিডেন্স বা সাক্ষ্য উপস্থাপন করতে পারে।

এরপর ডিফেন্সের পক্ষ থেকে দুই সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়। পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর তারা অতিরিক্ত সাক্ষীদের বিষয়ে জানতে পারলেও প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় পাননি। তাদের সিনিয়র আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী অসুস্থ। তাই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলেও জেরার প্রস্তুতির জন্য আরও দুই সপ্তাহ সময় দেওয়ার আবেদন জানান তিনি।

১২ নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দি

পরে মামলায় ১২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে মো. শাকিল আহমেদ জবানবন্দি দেন। তিনি ‘ক-গেজেটভুক্ত’ একজন জুলাইযোদ্ধা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় তিনি এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

এদিন সকালে কারাগার থেকে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হককে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

পাঁচ অভিযোগে বিচার চলছে

চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর এসব অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের আনা প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা ছিল সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের। এর ধারাবাহিকতায় ১৯ জুলাই তাদের মধ্যে ফোনে কথোপকথন হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই কথোপকথনের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দেওয়ার’ বিষয়ে আলোচনা হয়। কারফিউ জারির মাধ্যমে আন্দোলন দমনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও সেখানে উঠে আসে বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ।

প্রসিকিউশনের দাবি, তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার কারণে বহু ছাত্র-জনতা প্রাণ হারান এবং নির্যাতন বন্ধে তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি।

দ্বিতীয় অভিযোগে ২৩ জুলাই মিরপুরে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, তাদের প্ররোচনা ও উসকানিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় বাহিনী সেখানে হত্যাযজ্ঞ চালায়।

তৃতীয় অভিযোগে মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের উসকানি ও সহায়তায় ২৮ জুলাই মিরপুর-১০ এলাকায় হত্যাকাণ্ড ঘটে।

চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়েছে, কারফিউ জারি এবং মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ৪ আগস্ট মিরপুর-১ এলাকায় আকাশ, সেতু, আলভীসহ ১২ জনকে হত্যা করা হয়। এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।

পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকাতে পরিকল্পনা করেছিলেন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, তাদের নির্দেশে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় মিরপুর-২, মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১৩ এলাকায় আল-আমিন, আশরাফুল, সাব্বির, রিতাসহ ১৬ জন নিহত হন।

মামলাটিতে অতিরিক্ত সাত সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন নিয়ে ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে এখন নজর রয়েছে।


আপসের পরও গাজী নজরুলের জামিন হয়নি, জামিন পেলেন প্রথম স্ত্রী
আপসের পরও গাজী নজরুলের জামিন হয়নি, জামিন পেলেন প্রথম স্ত্রী

মরিয়ম খাতুনের পরিবারের সঙ্গে আপসের পরও আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামিন পাননি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তবে তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম জামিন পেয়েছেন।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আসামিদের পক্ষে হলফনামা দেন। সেখানে গাজী নজরুল ইসলাম ও...

১৩ ঘন্টা আগে


মরিয়মের আত্মহত্যার মামলা আপস, গাজী নজরুলের জামিনে আপত্তি নেই
মরিয়মের আত্মহত্যার মামলা আপস, গাজী নজরুলের জামিনে আপত্তি নেই

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আপস করেছেন বাদী মরিয়ম খাতুনের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। আপসনামায় কারাগারে থাকা দুই আসামির জামিনে তাঁর কোনো আপত্তি নেই বলে জানানো হয়েছে।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর...

১৬ ঘন্টা আগে


দুদকের দুই প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসিফের রিট
দুদকের দুই প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসিফের রিট

দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বরের দুটি প্রেস ব্রিফিংয়ের আইনগত বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।রিটে অভিযোগ করা হয়েছে, অনুসন্ধান শুরুর পর্যায়েই আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ‘প্রাথমিক...

২ দিন আগে


রিমান্ড শেষে কারাগারে এমপি গাজী নজরুল
রিমান্ড শেষে কারাগারে এমপি গাজী নজরুল

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।এদিন দ্বিতীয় দফার চার দিনের রিমান্ড

২ দিন আগে

Dr.Mahfuzul Alom