ক্যাম্পাস

সিট ভাগাভাগি করল ছাত্রদল-ছাত্রশক্তি-ছাত্র অধিকার, বাড়তি ছাত্রদের ৩৯ লাখ টাকা কার পকেটে?

অনলাইন ডেস্ক

২ মাস আগে


সিট ভাগাভাগি করল ছাত্রদল-ছাত্রশক্তি-ছাত্র অধিকার, বাড়তি ছাত্রদের ৩৯ লাখ টাকা কার পকেটে?

ছবি: সংগৃহীত


রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের একমাত্র আবাসিক হল শহীদ মামুন হলে সিট বণ্টন, অতিরিক্ত আবাসন এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ৫১২ আসনের এই হলে বর্তমানে এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে আবাসন সংকটের পাশাপাশি সিট বরাদ্দের স্বচ্ছতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিনের দাবির পর ২০২৫ সালের ১ জুলাই উদ্বোধন করা হয় শহীদ মামুন হল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী মামুন মিয়ার নামে হলটির নামকরণ করা হয়। তবে উদ্বোধনের পর থেকেই হল পরিচালনা ও সিট বণ্টনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষ থেকে অভিযোগ আসতে শুরু করে।

ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ শিক্ষার্থী

কলেজ সূত্র ও শিক্ষার্থীদের দাবি, সরকারি নথিতে হলের বৈধ আসনসংখ্যা ৫১২ হলেও বর্তমানে সেখানে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বসবাস করছেন। সরেজমিনে বিভিন্ন কক্ষে নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি শিক্ষার্থীকে অবস্থান করতে দেখা গেছে। কয়েকটি কক্ষে ১২ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী থাকছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ অবস্থায় পানি, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সেবায় চাপ বেড়েছে। হল-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, অতিরিক্ত আবাসিকের কারণে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে একাধিক মোটর চালাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সিট বণ্টনে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ

হলের সিট বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ছাত্রদলের একাধিক গ্রুপের মধ্যে সিট ভাগাভাগি হয়েছে। প্রকাশিত একটি তালিকা অনুযায়ী, আহ্বায়ক ইমাম হোসেনের প্যানেল ৮০টি, সদস্য সচিব সেলিম রেজার প্যানেল ১২০টি, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ মোল্লার গ্রুপ ৪৫টি এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হামদে রাব্বি আকরামের গ্রুপ ১৫টি সিট পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ নিয়ে ছাত্রদলের অভ্যন্তরেও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। পরে সিট বণ্টনকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যাতে কয়েকজন আহত হন।

অন্যদিকে, বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠনের জন্যও সীমিতসংখ্যক আসন বরাদ্দের তথ্য পাওয়া গেছে। জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্র অধিকার পরিষদ ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের জন্য কিছু সিট বরাদ্দ থাকলেও ছাত্রশিবির কোনো সিট গ্রহণ করেনি বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

রাজস্ব ঘাটতির অভিযোগ

হলে বৈধভাবে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বার্ষিক আট হাজার টাকা করে সেশন ফি নেওয়া হয়। সে হিসাবে ৫১২ শিক্ষার্থীর বিপরীতে কলেজের সম্ভাব্য রাজস্ব আয় প্রায় ৪১ লাখ টাকা।

তবে অতিরিক্ত আবাসিকদের ক্ষেত্রেও একই হারে অর্থ আদায় হয়ে থাকলে তার কোনো সরকারি হিসাব নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, অতিরিক্ত কয়েকশ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অর্থ আদায় হয়ে থাকলে প্রতিবছর প্রায় ৩৯ লাখ টাকার সমপরিমাণ অর্থের উৎস ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে এই অর্থ বাস্তবে আদায় হয়েছে কি না বা কার কাছে গেছে—এ বিষয়ে কোনো প্রামাণ্য তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

প্রশাসনের অবস্থান

হলের তত্ত্বাবধায়ক, ইসলাম শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারুকুল ইসলাম বলেন, কোনো কক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকলে প্রথমে বৈধ আবাসিকদের বিষয়টি জানাতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী অবস্থান করায় হল পরিচালনায় বাস্তব সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং ব্যয়ও বেড়েছে।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ছদরুদ্দীন আহমদ বলেন, প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তবে বিভিন্ন বাস্তব সীমাবদ্ধতার কারণে সব ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর বক্তব্য

জাতীয় ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব আল নোমান নিরব অভিযোগ করেন, স্বচ্ছ সিট বণ্টনের অভাবে একটি রাজনৈতিক সংগঠন হলের ওপর অস্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করেছে। তার মতে, রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের হলে রাখা বা বের করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অন্যদিকে, তিতুমীর কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি খাদেমুল ইসলাম সিয়াম বলেন, হল দখলকেন্দ্রিক রাজনীতির অংশ না হওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকেই তাদের সংগঠন কোনো সিট গ্রহণ করেনি। তিনি দাবি করেন, আবাসিক হল শিক্ষার্থীদের জন্য হলেও সেটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিশ্লেষণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সরকারি কলেজগুলোর আবাসিক হলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই আসনসংকট, গণরুম সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক প্রভাব একটি বড় সমস্যা। তিতুমীর কলেজের ঘটনাও সেই বৃহত্তর বাস্তবতারই প্রতিফলন।

তাদের মতে, সংকট নিরসনে প্রয়োজন-

  • বৈধ আবাসিকদের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি,

  • স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক সিট বরাদ্দ,

  • নিয়মিত আবাসিক যাচাই,

  • হল পরিচালনায় প্রশাসনের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ,

  • এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আবাসিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন না হলে আবাসন সংকটের পাশাপাশি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও শিক্ষার পরিবেশ-উভয়ই আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।


চুয়েটে নতুন উপাচার্যকে লাল কার্ড, শিক্ষার্থীদের শাটডাউন
চুয়েটে নতুন উপাচার্যকে লাল কার্ড, শিক্ষার্থীদের শাটডাউন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে প্রত্যাখ্যান করে লাল কার্ড দেখিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল থেকে নতুন উপাচার্যের উদ্দেশে লাল কার্ড প্রদর্শন করেন তারা।সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা পঞ্চম দিনের মতো ক্লাস

৩ দিন আগে


ইউআইটিএসের ইইই বিভাগে এক বছরের বেশি সময় নতুন ভর্তি নেই
ইউআইটিএসের ইইই বিভাগে এক বছরের বেশি সময় নতুন ভর্তি নেই

রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেসের (ইউআইটিএস) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগে এক বছরের বেশি সময় ধরে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে বিভাগটিতে মাত্র ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তারা সবাই অষ্টম সেমিস্টারে অধ্যয়নরত।শিক্ষার্থীদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইইই বিভাগের...

৪ দিন আগে


রাজশাহীতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি হুমকি
রাজশাহীতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি হুমকি

রাজশাহীর পদ্মা সরকারি কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর পাল্টাপাল্টি হুমকি ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এক প্রতিবাদ সমাবেশে ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মহানগর সভাপতি ইমরান নাজির ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ‘কুত্তার মতো পিটিয়ে’ রাজশাহী ছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন। এর জবাবে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক (লিমন)।বুধবার...

৭ দিন আগে


বিভাগীয় শহরে নয়, জাবির ভর্তি পরীক্ষা এবারও ক্যাম্পাসে
বিভাগীয় শহরে নয়, জাবির ভর্তি পরীক্ষা এবারও ক্যাম্পাসে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভর্তি পরীক্ষা বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র ও সময় না পাওয়া, সেশন জটের আশঙ্কা এবং অতিরিক্ত ব্যয়সহ নানা বাস্তব সমস্যার কারণে এবারও ক্যাম্পাসেই ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্তের দিকে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত...

৭ দিন আগে

Dr.Mahfuzul Alom