‘টাকা না দিলে ফাইল গায়েব’—বসুন্দিয়া ভূমি অফিসের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ
দ্যা সিটি সিগন্যাল ডেক্স
বসুন্দিয়া ভূমি অফিসে ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের
যশোরের বসুন্দিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ না দিলে অনেক সময় নামজারি, জমা খারিজসহ বিভিন্ন ভূমিসংক্রান্ত কাজের ফাইল আটকে রাখা হয়। এমনকি ঘুষের টাকা না দিলে ফাইল গায়েব করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের তীর বসুন্দিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা পলাশের দিকে। স্থানীয়দের দাবি, ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে একটি দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। ওই চক্রের সদস্যরা ভূমিসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজের জন্য সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থের দরকষাকষি করেন এবং পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ সম্পন্ন করান।
নামজারি ও জমা খারিজে ঘুষের অভিযোগ
বসুন্দিয়া ইউনিয়ন যশোর সদর উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জমির নামজারি, জমা খারিজ, খাজনা, সরকারি জমি লিজসহ নানা ভূমিসেবা নিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আসেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব সেবা নিতে গিয়ে অনেককেই দালালের মাধ্যমে কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের বিষয়ে সমঝোতা হওয়ার পরই অনেক ফাইলের কার্যক্রম এগোয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন, নিয়ম অনুযায়ী সরকারি ফি পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। সেই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল দীর্ঘদিন পড়ে থাকে কিংবা নানা অজুহাতে কাজ বিলম্বিত হয়।
মাদ্রাসার জমি নামজারিতে ৪০ হাজার টাকা ঘুষের অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসুন্দিয়া মডেল দাখিল মাদ্রাসার ৭৫ শতাংশ জমি নামজারি করার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক শহিদুল ওই টাকা পলাশের হাতে তুলে দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, টাকা দেওয়ার পর দ্রুত নামজারির আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা ও হস্তান্তর নিয়েও একাধিক প্রশ্ন রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রাসার মোট জমির একটি অংশ বিভিন্ন সময়ে বিক্রি ও হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ শতাংশ জমি মাদ্রাসার সভাপতি লুৎফর রহমান তার স্ত্রী জামেলা বেগমের নামে দলিল করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ওই জমি তাদের ছেলে সাকিবুরের নামে দানপত্র করা হয়। আরও ২১ শতাংশ জমি ইসমাইল বিশ্বাস ওরফে বাটুল বিশ্বাসের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ফলে বর্তমানে মাদ্রাসার নামে মাত্র ২৪ শতাংশ জমি রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে এসব জমি হস্তান্তর ও নামজারি সংক্রান্ত অভিযোগের স্বতন্ত্র যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দালালচক্রের মাধ্যমে কাজ পরিচালনার অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, বসুন্দিয়া ভূমি অফিসকে ঘিরে কয়েকজন দালাল নিয়মিত সক্রিয় রয়েছেন। তাদের মধ্যে রতন ও আতিয়ারসহ কয়েকজনের নাম স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি জমি লিজ নেওয়া, নামজারি, খাজনা ও ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদন পেতে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে এসব ব্যক্তির মাধ্যমে অর্থ আদায় করা হয়।
এ ছাড়া ভূমি অফিস থেকে ভুয়া খাজনা দাখিলা ও নামজারির কাগজপত্র তৈরি করে ব্যাংকঋণ নেওয়ার চেষ্টা করেন—এমন কিছু ব্যক্তিও অফিসের আশপাশে নিয়মিত যাতায়াত করেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও প্রশাসনিক তদন্ত প্রয়োজন।
অর্থ ও সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়েও প্রশ্ন স্থানীয়দের
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, চাকরির শুরুর দিকে পলাশ সাধারণ জীবনযাপন করলেও বর্তমানে তার জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এলাকায় তার একটি বহুতল ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
তবে এসব সম্পদ তার বৈধ আয় ও সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ, অস্বীকার কর্মকর্তার
ভূমি অফিসের এক কর্মচারী সুফিয়ার মাধ্যমে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। পাশাপাশি পলাশ ও ওই কর্মচারীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নানা কথাবার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এ ধরনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে পলাশ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, “আমি কোনো ঘুষ খাই না। মাঝেমধ্যে মানুষ আমাকে কিছু হাদিয়া-তোহফা দিয়ে যায়। আমার অফিসে ঘুষের কোনো কারবার চলে না।”
সুফিয়ার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “সুফিয়াকে এই অফিস থেকে বদলি করা হয়েছে। তাকে নিয়ে আমার ব্যাপারে একদল কুচক্রী মহল বাজে মন্তব্য ও গুজব ছড়াচ্ছে। আমি সবসময় সঠিকভাবে আমার দায়িত্ব পালন করে আসছি।”
দুদকে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি
এদিকে ভুক্তভোগী কয়েকজন ব্যক্তি পলাশের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ বা মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে যশোর সদর ভূমি কর্মকর্তা জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি তো আপনার কাছ থেকেই বিষয়টি শুনলাম। আমি বিষয়টি দেখছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
বিভাগীয় তদন্তের দাবি
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, বসুন্দিয়া ভূমি অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে ভূমি অফিসের সেবাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা অতিরিক্ত অর্থ প্রদান ছাড়াই সরকারি সেবা পেতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
ধলেশ্বরীর ভাঙনে আতঙ্কে ১৫ পরিবার, নদীগর্ভে বসতঘর
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ধলেশ্বরী নদীর তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কেয়াইন ইউনিয়নের বড় বর্তা গ্রামের অন্তত ১৫টি পরিবার। এরই মধ্যে একটি বসতঘর আসবাবপত্রসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অন্তত ১৫টি বসতবাড়ি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আকস্মিক নদীভাঙনে গফুর শেখের টিনের ঘরটি আসবাবপত্রসহ নদীগর্ভে চলে যায়। চোখের সামনে বসতঘর হারিয়ে পরিবারটি অসহায়...
২ দিন আগে
কঙ্গোয় নৌকাডুবিতে ৪১ মৃত্যু, চলছে উদ্ধার অভিযান
মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) টাঙ্গানিকা হ্রদে প্রায় ১০০ যাত্রী ও পণ্যবোঝাই একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ৪৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে ডিআর কঙ্গোর কালেমি শহরের উদ্দেশে যাত্রা
৫ দিন আগে
দুর্ঘটনায় আহত নির্মাণ শ্রমিক রতন দাসকে আর্থিক সহায়তা
বাসুদেবপুরে দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত ইমারত নির্মাণ শ্রমিক রতন দাস কে আর্থিক সহায়তা প্রদান নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার বাসুদেবপুরে দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত ইমারত নির্মাণ শ্রমিক শ্রী রতন দাস কে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে নলডাঙ্গা বাসুদেবপুর শাখা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন।২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাত ১০টায় বাসুদেবপুর বাজারে অবস্থিত ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের অস্থায়ী...
৭ দিন আগে
মাদক ব্যবসায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে তাবলিগে পাঠালেন ওসি
চাঁদপুরের কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আকানিয়া-নাছিরপুর গ্রামের জালাল ও হেলালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা হয়েছে
৭ দিন আগে
