যশোর নওয়াপাড়া পৌর এলাকায় মাদকের ভয়াবহতা : প্রতিরোধের উপায় -মাহফুজুর রহমান
সাহাজালাল সম্রাত, রিপোটার
ছবি: সংগৃহীত
যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র নওয়াপাড়া। ভৈরব নদের তীরের এই ব্যস্ত বাণিজ্যিক শহরটি যেমন অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ, তেমনি সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের এক অন্ধকার জগতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা জাগাচ্ছে।
পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে মাদকের সহজলভ্যতা আজ এক নীরব ঘাতকের রূপ নিয়েছে। তরুণ সমাজের একটি অংশ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, যা শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয় পরিবার, সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।নওয়াপাড়ার তরুণ সমাজকে এই মরণনেশা থেকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
নওয়াপাড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর ও ব্যবসাকেন্দ্র হওয়ায় এখানে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষের যাতায়াত বেশি। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র মাদক ব্যবসাকে বিস্তার ঘটাচ্ছে। ইয়াবা, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সহজলভ্য হয়ে উঠছে। অনেক সময় কিশোর ও তরুণদের ব্যবহার করা হচ্ছে মাদক বহন ও বিক্রির কাজে। এতে তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে।
মাদকের প্রভাব শুধু একজন ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। একজন মাদকাসক্ত ধীরে ধীরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, অর্থনৈতিক সংকট তৈরি করে এবং অনেক সময় অপরাধমূলক কর্মকান্ডেও জড়িয়ে পড়ে। চুরি, ছিনতাই, পারিবারিক সহিংসতা এসবের পেছনেও অনেক সময় মাদক বড় ভূমিকা রাখে। ফলে একটি সমাজের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।
এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ। প্রথমত, প্রশাসনকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরিবারকে সচেতন হতে হবে। সন্তানদের প্রতি নজরদারি বাড়ানো এবং তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করা জরুরি।
তৃতীয়ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। স্কুল-কলেজে নিয়মিত সচেতনতামূলক আলোচনা, সেমিনার ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাদকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানাতে হবে। পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক কর্মকান্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করলে তারা ইতিবাচক পথে এগিয়ে যাবে।
এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমকে একসাথে কাজ করতে হবে। মসজিদ, মন্দির কিংবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া গেলে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।
মাদক বিস্তারের কারণসমূহ
১. বেকারত্ব ও হতাশা: কর্মসংস্থানের অভাব বা ব্যবসায়িক মন্দার সুযোগে তরুণরা মাদকের দিকে ঝুঁকছে।
২. পারিবারিক সচেতনতার অভাব: অনেক ক্ষেত্রে সন্তান কোথায় যাচ্ছে বা কার সাথে মিশছে, সেদিকে অভিভাবকদের নজরদারির ঘাটতি রয়েছে।
৩. রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শিথিলতা: অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তির ছত্রছায়ায় মাদকের কারবারিরা নির্ভয়ে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।
৪. ভৌগোলিক অবস্থান: সীমান্ত অঞ্চলের নিকটবর্তী এলাকা হওয়ায় নওয়াপাড়াকে রুট হিসেবে ব্যবহার করা সহজ হচ্ছে।
প্রতিরোধের উপায়
মাদকের এই ভয়াল গ্রাস থেকে নওয়াপাড়াকে মুক্ত করতে হলে প্রয়োজন সমন্বিত প্রচেষ্টা। কোনো একক পদক্ষেপ দিয়ে এই ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়।
১. জিরো টলারেন্স নীতি: স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে মাদকের গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় যেন অপরাধীর ঢাল না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
২. কমিউনিটি পুলিশিং ও সামাজিক আন্দোলন: প্রতিটি ওয়ার্ডে মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে। মসজিদের ইমাম, শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করতে হবে।
৩. সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া চর্চা: তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে মাঠের খেলাধুলা এবং সুস্থ বিনোদনের বিকল্প নেই। নওয়াপাড়ার ক্লাবগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। নতুন সাংস্কৃতিক ক্লাব তৈরি করতে হবে।
৪. পারিবারিক কাউন্সেলিং: পরিবারই হলো প্রথম প্রতিরোধ দুর্গ। সন্তানদের সময় দেওয়া এবং তাদের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না, সেদিকে অভিভাবকদের সজাগ থাকতে হবে।
নওয়াপাড়া আমাদের সবার প্রিয় শহর। এই শহরকে মাদকের অভিশাপ থেকে রক্ষা করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব। পরিবার, সমাজ ও প্রশাসন একসাথে উদ্যোগ নিলে অবশ্যই মাদকমুক্ত নওয়াপাড়া গড়ে তোলা সম্ভব। এখনই সময় সচেতন হওয়ার, প্রতিরোধ গড়ে তোলার এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ নিশ্চিত করার।
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭৯
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী বখাটেদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযানে আরও ৩৭৯ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনা ও সরাসরি অংশগ্রহণে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট এবং গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এ অভিযান
৩ ঘন্টা আগে
২৩৫ ইউনিটের বিল ৫০৬ কোটি টাকা, শোকজ ৪ কর্মকর্তা
মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ৫০৬ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ৯৫৯ টাকার বিল পাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কম্পিউটার টাইপিংয়ের ভুলে অস্বাভাবিক এ বিল তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিলে ব্যবহারের পরিমাণ ২৩৫ ইউনিট...
৭ ঘন্টা আগে
মিরপুর-১০-এ ফুটপাত উচ্ছেদ ঘিরে ভাঙচুর, ৩ ময়লার গাড়িতে আগুন
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। একটি ভেকু ও পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। মিরপুর মডেল থানার
৮ ঘন্টা আগে
দাড়ি নিয়ে যুবদল নেতা নয়নের কটাক্ষপূর্ণ স্লোগানের তীব্র নিন্দা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, মুসলমানদের সুন্নাহ ও ধর্মীয় সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ দাড়ি নিয়ে বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের কটাক্ষপূর্ণ ও উসকানিমূলক স্লোগানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ২৭ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,...
২ দিন আগে
