জাতীয়

রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট রোববার,দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক

১২ ঘন্টা আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার চার্জশিট আগামী রোববার (২৪ মে) আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ডিএনএ পরীক্ষার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই চার্জশিট জমা দেওয়া সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার বাসা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দিনভর সরকারি কাজ শেষে রাত ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকে নিহত শিশুর বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক। সরকারপ্রধান নিহত শিশুর পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস প্রদান করেন।

ডিএনএ পরীক্ষা শেষে চার্জশিট

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মামলার প্রধান আসামি ইতোমধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এখন তদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।

তিনি জানান, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতের অনুমতি নেওয়া হয়েছে এবং সিআইডির পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণের কাজ চলছে। রোববার দুপুরের মধ্যেই এ পরীক্ষা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর একইদিন আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা চাই অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন হোক এবং অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।”

আইন সংশোধনের ইঙ্গিত

শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনায় বিদ্যমান আইন আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার চেয়েছে। পাশাপাশি রামিসার ছোট বোনের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পরিবার। প্রধানমন্ত্রী তাদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

জনমনে চাপ ও দ্রুত বিচারের প্রত্যাশা

রামিসা হত্যা মামলাটি ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জনমনে যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগ ও বিচারিক সক্ষমতার একটি বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

তারা বলছেন, শুধু দ্রুত চার্জশিট দিলেই হবে না; তদন্তের স্বচ্ছতা, সাক্ষ্যপ্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতাও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিশু সুরক্ষায় সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার দাবি জোরালো হচ্ছে।

Dr.Mahfuzul Alom