জেলার খবর

হত্যা মামলার আসামির ‘স্বপ্নে আদিষ্ট পীর’ পরিচয়, কবরস্থানে আস্তানা ঘিরে উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক

৩ মাস আগে


হত্যা মামলার আসামির ‘স্বপ্নে আদিষ্ট পীর’ পরিচয়, কবরস্থানে আস্তানা ঘিরে উদ্বেগ

ছবি: সংগৃহীত


সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার একটি শতবর্ষী কবরস্থানে ‘স্বপ্নে আদিষ্ট পীর’ পরিচয়ে বসবাস করছেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি গয়াছ মিয়া। স্থানীয়দের অভিযোগ, কবরস্থান এলাকায় গড়ে ওঠা তার আস্তানাকে কেন্দ্র করে মাদকসেবন ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা গয়াছ মিয়া (৩৫) প্রায় এক বছর ধরে গ্রামের পঞ্চায়েতি কবরস্থানের একটি বড় গাছের নিচে বাঁশ ও বেত দিয়ে নির্মিত দোতলা সদৃশ একটি আস্তানায় বসবাস করছেন। মাথায় সাদা পাগড়ি ও হাতে লোহার রড নিয়ে চলাফেরা করা গয়াছ নিজেকে একজন ‘পীর’ হিসেবে পরিচয় দেন এবং দাবি করেন, স্বপ্নে নির্দেশ পেয়ে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন।

হত্যা মামলার আসামি

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, ২০২০ সালের ৪ এপ্রিল তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গয়াছ মিয়া ছুরিকাঘাত করলে জাকির হোসেন নিহত হন এবং জিহান মিয়া গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় গয়াছ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রায় দুই বছর কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

স্থানীয়দের অভিযোগ

স্থানীয়দের ভাষ্য, জামিনে মুক্তির পর থেকেই গয়াছ কবরস্থানের নির্জন এলাকায় আস্তানা গড়ে তোলেন। তাদের অভিযোগ, সেখানে গাঁজা, মদসহ বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

গত ১৭ জুন এলাকাবাসী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে কবরস্থান থেকে তার আস্তানা উচ্ছেদ, কবরস্থানের পরিবেশ রক্ষা এবং মসজিদের সম্পত্তি উদ্ধারের দাবি জানান।

বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা কামাল উদ্দিন বলেন, গয়াছ মিয়া বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করেন। এতে আশপাশের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আতঙ্কের মধ্যে যাতায়াত করছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়ার অভিযোগ, গয়াছের হাতে প্রায়ই লোহার রড ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। বিষয়টি এলাকার নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।

বাজিতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহীন আলম বলেন, সন্ধ্যার পর ওই এলাকায় মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। এতে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বাজিতপুর জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি সুনুর মিয়া বলেন, পবিত্র কবরস্থানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়।

অভিযোগ অস্বীকার

নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন গয়াছ মিয়া। তিনি বলেন, স্বপ্নে এক অলি-আউলিয়ার নির্দেশ পেয়ে সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি কোনো মাদক বা জুয়ার আসর পরিচালনা করেন না; বরং আধ্যাত্মিক সাধনায় সময় কাটান এবং মানুষের উপকারের চেষ্টা করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, তার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জমিজমা বিক্রি হয়ে যাওয়ায় আশ্রয়হীন হয়ে কবরস্থানে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।

তবে নিহত জাকির হোসেনের বাবা রুহুল আমিন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, গয়াছের বাড়িতে কেউ আগুন দেয়নি এবং তার জমিও জোরপূর্বক দখল বা বিক্রি করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, জামিনে মুক্তির পর গয়াছ তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে আসছেন।

প্রশাসনের অবস্থান

দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, গয়াছ মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জমির বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন দেখবে।

হত্যা মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাটি পুরোনো হওয়ায় নথিপত্র যাচাই করে বিস্তারিত জানাতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ বলেন, লিখিত অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা ও কবরস্থানের পরিবেশ রক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশাসনের তদন্তের পর অভিযোগগুলোর সত্যতা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।


ধলেশ্বরীর ভাঙনে আতঙ্কে ১৫ পরিবার, নদীগর্ভে বসতঘর
ধলেশ্বরীর ভাঙনে আতঙ্কে ১৫ পরিবার, নদীগর্ভে বসতঘর

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ধলেশ্বরী নদীর তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কেয়াইন ইউনিয়নের বড় বর্তা গ্রামের অন্তত ১৫টি পরিবার। এরই মধ্যে একটি বসতঘর আসবাবপত্রসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অন্তত ১৫টি বসতবাড়ি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আকস্মিক নদীভাঙনে গফুর শেখের টিনের ঘরটি আসবাবপত্রসহ নদীগর্ভে চলে যায়। চোখের সামনে বসতঘর হারিয়ে পরিবারটি অসহায়...

২ দিন আগে


কঙ্গোয় নৌকাডুবিতে ৪১ মৃত্যু, চলছে উদ্ধার অভিযান
কঙ্গোয় নৌকাডুবিতে ৪১ মৃত্যু, চলছে উদ্ধার অভিযান

মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) টাঙ্গানিকা হ্রদে প্রায় ১০০ যাত্রী ও পণ্যবোঝাই একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ৪৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে ডিআর কঙ্গোর কালেমি শহরের উদ্দেশে যাত্রা

৫ দিন আগে


দুর্ঘটনায় আহত নির্মাণ শ্রমিক রতন দাসকে আর্থিক সহায়তা
দুর্ঘটনায় আহত নির্মাণ শ্রমিক রতন দাসকে আর্থিক সহায়তা

বাসুদেবপুরে দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত ইমারত নির্মাণ শ্রমিক রতন দাস কে আর্থিক সহায়তা প্রদান নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার বাসুদেবপুরে দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত ইমারত নির্মাণ শ্রমিক শ্রী রতন দাস কে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে নলডাঙ্গা বাসুদেবপুর শাখা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন।​২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার  রাত ১০টায় বাসুদেবপুর বাজারে অবস্থিত ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের অস্থায়ী...

৭ দিন আগে


মাদক ব্যবসায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে তাবলিগে পাঠালেন ওসি
মাদক ব্যবসায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে তাবলিগে পাঠালেন ওসি

চাঁদপুরের কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আকানিয়া-নাছিরপুর গ্রামের জালাল ও হেলালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা হয়েছে

৮ দিন আগে

Dr.Mahfuzul Alom