ধর্ম

ঈদে মিলাদুন্নবী: ইসলামে এর অবস্থান কী? কোরআন-হাদিস ও আলেমদের মতভেদ

দ্যা সিটি সিগন্যাল ডেক্স

১ মাস আগে


ঈদে মিলাদুন্নবী: ইসলামে এর অবস্থান কী? কোরআন-হাদিস ও আলেমদের মতভেদ

ছবি: সংগৃহীত


মিলাদুন্নবী’ বলতে কী বোঝায়?

‘মিলাদ’ অর্থ জন্ম। মিলাদুন্নবী বলতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মকে স্মরণ করাকে বোঝানো হয়। সাধারণত রবিউল আউয়াল মাসে বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন, চরিত্র, সুন্নাহ ও সীরাত নিয়ে আলোচনা করা হয়।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্মের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে মতভেদ আছে। ১২ রবিউল আউয়াল বহুল প্রচলিত হলেও এটিই নিশ্চিত ও সর্বসম্মত জন্মতারিখ—এমন নয়।

২. রাসুল (সা.) কি নিজের জন্মদিন পালন করেছেন?

সহিহ হাদিসে পাওয়া যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) সোমবার রোজা রাখতেন। তাঁকে সোমবার রোজা রাখার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এটি সেই দিন যেদিন তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তাঁর ওপর ওহি নাজিল হয়েছে।

সহিহ মুসলিমে এই হাদিসটি রয়েছে।

এখান থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট: রাসুল (সা.) তাঁর জন্মের দিনের জন্য ইবাদত হিসেবে রোজা রেখেছেন।

কিন্তু রাসুল (সা.) বা সাহাবায়ে কেরাম প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট দিনে বর্তমান প্রচলিত ধরনের মিলাদ মাহফিল বা জন্মদিনের অনুষ্ঠান করেছেন—এমন সহিহ প্রমাণ নেই।

৩. সাহাবিরা কি মিলাদ পালন করেছেন?

এখানেই মূল মতভেদ।

যারা মিলাদকে বিদআত বলেন, তারা বলেন—রাসুল (সা.), সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও প্রথম যুগের মুসলমানরা বার্ষিক মিলাদ অনুষ্ঠান করেননি। তাই পরে এটিকে নির্দিষ্ট ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে চালু করা ঠিক নয়।

অন্যদিকে যারা মিলাদকে বৈধ মনে করেন, তারা বলেন—যদি অনুষ্ঠানে হারাম কোনো কাজ না থাকে এবং সেখানে রাসুল (সা.)-এর সীরাত আলোচনা, দরুদ, দোয়া, দান-সদকা ইত্যাদি করা হয়, তাহলে এটিকে নবীজির প্রতি ভালোবাসা ও তাঁর জীবন স্মরণের একটি বৈধ মাধ্যম হিসেবে দেখা যেতে পারে।

৪. তাহলে আলেমদের মধ্যে মতভেদটা ঠিক কোথায়?

মূল প্রশ্ন হলো:

“রাসুল (সা.)-এর জন্ম ও জীবন স্মরণ করা যাবে কি?”

এ বিষয়ে আপত্তি তুলনামূলক কম।

বিতর্ক হচ্ছে—

“প্রতি বছর নির্দিষ্ট একটি দিনকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে নির্ধারণ করে মিলাদ উদযাপন করা শরিয়তসম্মত কি না?”

একদল আলেম বলেন না—এটি নবীজি (সা.) ও সাহাবিদের আমলে ছিল না, তাই বিদআত।

আরেকদল আলেম বলেন হ্যাঁ, শর্তসাপেক্ষে—যদি এটিকে ফরজ/ওয়াজিব মনে না করা হয় এবং অনুষ্ঠানে শরিয়তবিরোধী কোনো কাজ না থাকে, তাহলে সীরাত, দরুদ, নসিহত, দান-সদকার মাধ্যমে নবীজির জীবন স্মরণ করা বৈধ হতে পারে।

৫. কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত?

মিলাদ উপলক্ষে যে অনুষ্ঠানই করা হোক, সেখানে এসব বিষয় এড়িয়ে চলা জরুরি:

  • শিরক বা আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করার কোনো কথা
  • রাসুল (সা.)-এর ব্যাপারে অতিরঞ্জন
  • মিথ্যা বা দুর্বল/জাল হাদিস প্রচার
  • নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা
  • অশ্লীলতা
  • গান-বাজনা নিয়ে শরিয়তবিরোধী আয়োজন
  • অপচয়
  • লোক দেখানো
  • কোনো নির্দিষ্ট আয়োজনকে ফরজ বা ওয়াজিব মনে করা

৬. নবীজি (সা.)-কে ভালোবাসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ কী?

এখানে কোরআন খুব পরিষ্কার:

“তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ করো; আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।”
— সূরা আলে ইমরান, ৩:৩১

অর্থাৎ নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো—

তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করা, তাঁর চরিত্র গ্রহণ করা, তাঁর আদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা এবং তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।

৭. তাহলে মিলাদ পালনকারী কি ভুল? আর পালন না করলে কি নবীকে ভালোবাসে না?

এখানে ভারসাম্য রাখা খুব জরুরি।

মিলাদকে বৈধ মনে করে এমন সম্মানিত আলেমও আছেন, আবার এটিকে বিদআত মনে করেন এমন সম্মানিত আলেমও আছেন। তাই এ বিষয়ে মুসলমানদের একে অপরকে সহজে কাফের, মুশরিক বা নবীপ্রেমহীন বলা উচিত নয়।

একইভাবে, কেউ মিলাদ পালন না করলেই তিনি নবীজি (সা.)-কে ভালোবাসেন না—এ কথাও বলা ঠিক নয়।

৮. সবচেয়ে নিরাপদ ও সর্বসম্মত আমলগুলো কী?

রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে এমন অনেক আমল আছে যেগুলো নিয়ে বিতর্ক নেই:

দরুদ পাঠ করা → সুন্নাহ অনুসরণ করা → সীরাত পড়া → তাঁর চরিত্র অনুসরণ করা → তাঁর শেখানো ইবাদত করা → গরিবকে সাহায্য করা → সত্যবাদী ও আমানতদার হওয়া → তাঁর শিক্ষা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।


নবীজির টুপি ও পাগড়ি: কেমন ছিল কী জানা যায়
নবীজির টুপি ও পাগড়ি: কেমন ছিল কী জানা যায়

নবীজি (সা.)-এর জীবন মুমিনের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। ইবাদত-বন্দেগি থেকে পোশাক-পরিচ্ছদ, চলাফেরা ও দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রেই তাঁর জীবনে রয়েছে অনুসরণীয় শিক্ষা। রাসুল (সা.) কখনো শুধু টুপি পরতেন, আবার কখনো টুপির ওপর পাগড়িও পরতেন।নবীজির টুপি কেমন ছিলবিভিন্ন বর্ণনায় নবীজি (সা.)-এর টুপি ব্যবহারের কথা পাওয়া যায়। এসব বর্ণনা থেকে জানা যায়, তাঁর...

৬ দিন আগে


যে ৮টি গুণ মুমিনের চরিত্রকে সুন্দর করে
যে ৮টি গুণ মুমিনের চরিত্রকে সুন্দর করে

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— «صِبْغَةَ اللَّهِ»—অর্থাৎ “আল্লাহর রঙ”।এই স্বর্গীয় রঙে রঙিন হওয়ার অর্থ হলো আল্লাহ তাআলা ও তাঁর প্রিয় রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পছন্দনীয় গুণাবলি নিজের চরিত্রে ধারণ করা।একজন মুমিনের জীবনে যে গুণগুলো বিশেষভাবে থাকা প্রয়োজন—১. তাকওয়া — সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করা এবং তাঁর নির্দেশ মেনে চলা।২. ধৈর্য ও সহনশীলতা —

৬ দিন আগে


শিশুকে আয়াতুল কুরসি শেখানোর গুরুত্ব
শিশুকে আয়াতুল কুরসি শেখানোর গুরুত্ব

শিশুদের ছোটবেলা থেকেই কোরআনের সঙ্গে পরিচিত করে তোলা ইসলামী শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোরআনের ছোট ছোট সুরা ও আয়াত শেখানোর পাশাপাশি আয়াতুল কুরসিও তাদের মুখস্থ করানো যেতে পারে। সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটি আল্লাহর মহত্ত্ব, ক্ষমতা, জ্ঞান ও কর্তৃত্বের পরিচয় তুলে ধরে। শুধু মুখস্থ করার পরিবর্তে এর অর্থ ও শিক্ষা বুঝিয়ে...

৮ দিন আগে


আজ পবিত্র ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম
আজ পবিত্র ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার পবিত্র রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখ। সুফি অনুসারী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে দিনটি ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ নামে পরিচিত। কাদেরিয়া সুফি ধারার প্রতিষ্ঠাতা, প্রখ্যাত আলেম ও আধ্যাত্মিক সাধক হজরত শেখ আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর স্মরণে এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, ইসালে সওয়াব ও আলোচনা সভার আয়োজন...

৮ দিন আগে

Dr.Mahfuzul Alom