জাতীয়

ইউনিভার্সাল কার্ড কী, কী সুবিধা মিলতে পারে

অনলাইন ডেস্ক

২ দিন আগে


ইউনিভার্সাল কার্ড কী, কী সুবিধা মিলতে পারে

ছবি: সংগৃহীত


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্ড ও সুবিধাকে একীভূত করে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এর ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি।

কী এই ইউনিভার্সাল কার্ড, আর এটি চালু হলে নাগরিকরা কী ধরনের সুবিধা পেতে পারেন—এ নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অধীনে থাকা সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে ধীরে ধীরে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

এক কার্ডে বিভিন্ন সেবা

বর্তমানে সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তার জন্য ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। এর বাইরে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা এবং অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিও চালু আছে।

সরকারের পরিকল্পনা হলো এসব কর্মসূচির তথ্য ও সুবিধা একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা। অর্থাৎ, নাগরিক বা পরিবারের জন্য প্রতিটি সুবিধা পেতে আলাদা আলাদা কার্ড বা প্রক্রিয়ার পরিবর্তে একটি কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সরকারি নথিতে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডকে ধাপে ধাপে এমন একটি সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্রে রূপান্তরের লক্ষ্য রয়েছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সেবা সমন্বিতভাবে দেওয়া যাবে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ড যেভাবে ভিত্তি তৈরি করছে

ফ্যামিলি কার্ড মূলত তথ্যভিত্তিক ডিজিটাল পরিচয় ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। বর্তমানে নির্বাচিত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বাবলম্বীকরণের সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে এ কর্মসূচিতে।

কার্ডটি পরিবারের নারীপ্রধানের নামে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সুবিধাভোগী নির্বাচনে পরিবারের আর্থসামাজিক তথ্য, ঘরে ঘরে তথ্য সংগ্রহ এবং ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা পিএমটি স্কোরিংয়ের মতো পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

সরকারি গাইডলাইনে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে নগদ সহায়তা ও টিসিবির সহায়তাসহ বিভিন্ন সুবিধাকে একক কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে একটি সমন্বিত ডাটাবেজ বা ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রির মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির তথ্য এক জায়গায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কী ধরনের সুবিধা মিলতে পারে

ইউনিভার্সাল কার্ডের পূর্ণাঙ্গ কাঠামো এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে সরকারি পরিকল্পনায় যে দিকগুলো উঠে এসেছে, তাতে ভবিষ্যতে একটি কার্ডের মাধ্যমে কয়েক ধরনের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • নগদ সহায়তা: যোগ্য পরিবারকে নিয়মিত সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়া।

  • খাদ্য সহায়তা: ভর্তুকি বা খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে একই পরিচয় ব্যবহার।

  • শিক্ষা সহায়তা: বিভিন্ন শিক্ষা ভাতা বা উপবৃত্তির সঙ্গে কার্ডের তথ্য যুক্ত করা।

  • স্বাস্থ্যসেবা: ই-হেলথসহ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সরকারি সহায়তা ব্যবস্থার সঙ্গে কার্ডের সংযোগ।

  • কৃষি সহায়তা: কৃষক ও কৃষিভিত্তিক সহায়তার তথ্য একই ব্যবস্থায় যুক্ত করার সুযোগ।

  • সামাজিক ভাতা: বয়স্ক, বিধবা ও অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধাভোগী শনাক্তকরণ ও অর্থ বিতরণে সমন্বিত তথ্য ব্যবহার।

তবে কোন নাগরিক কোন সুবিধা পাবেন, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির যোগ্যতার শর্ত বহাল থাকতে পারে। অর্থাৎ একটি কার্ড থাকা মানেই সব ধরনের সরকারি সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।

কী লাভ হতে পারে

একাধিক কর্মসূচির তথ্য এক জায়গায় থাকলে একই ব্যক্তি বা পরিবার একাধিক কর্মসূচিতে একই ধরনের সুবিধা নেওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্ত করা, ভাতা বিতরণে মধ্যস্বত্বভোগীর ভূমিকা কমানো এবং সরকারি অর্থের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ সহজ হতে পারে।

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা নীতিসংক্রান্ত নথিতেও বর্তমান ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতা, একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণ এবং প্রকৃত দরিদ্রদের বাদ পড়ার মতো সমস্যা কমানোর লক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে।

তবে এ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করবে তথ্যের নির্ভুলতা, নিয়মিত ডাটাবেজ হালনাগাদ, সুবিধাভোগী নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার ওপর। প্রধানমন্ত্রীও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্প্রসারণে নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ ও প্রকৃত সুবিধাভোগী শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

এখনো যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি

ইউনিভার্সাল কার্ডের ধারণা ঘোষণা করা হলেও এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন কাঠামো এখনো স্পষ্ট নয়। কোন কোন কার্ড বা কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত একীভূত হবে, বর্তমান কার্ডগুলোর কী হবে, কারা কার্ড পাবেন এবং একটি কার্ডে কোন কোন সুবিধা নিশ্চিত করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডই ধাপে ধাপে সর্বজনীন সামাজিক পরিচয়পত্রে রূপ নেওয়ার ভিত্তি তৈরি করছে। ফলে ইউনিভার্সাল কার্ড বাস্তবায়িত হলে দেশের বিচ্ছিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামোয় আনার বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে।


মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেট-পুলিশের সমন্বয়ের ঘাটতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে ম্যাজিস্ট্রেট-পুলিশের সমন্বয়ের ঘাটতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সঙ্গে যথাযথভাবে যোগাযোগ করেননি। এ কারণে

৮ ঘন্টা আগে


ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ
ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ত্রিশিতা মওলাসহ একটি প্রতিনিধিদল। সাক্ষাৎকালে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।সাক্ষাৎকালে জিএসএফ...

১৩ ঘন্টা আগে


গোপন তদন্তের আওতায় পুলিশের ৬৫৩৯ পরিদর্শক
গোপন তদন্তের আওতায় পুলিশের ৬৫৩৯ পরিদর্শক

পুলিশের ৬ হাজার ৫৩৯ পরিদর্শকের বিষয়ে গোপন তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন কর্মকর্তার সাম্প্রতিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর অধিকতর বিশ্বাসযোগ্য ও আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের ওসি পদে পদায়নের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।এ জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট শাখা...

১৪ ঘন্টা আগে


ক্ষমতা পেয়ে জনগণকে বোকা ভাবার ভুল করবেন না
ক্ষমতা পেয়ে জনগণকে বোকা ভাবার ভুল করবেন না

পুরোনো গল্প দিয়েই শুরু করি। ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ শাসনামলের শেষ নির্বাচনে তৎকালীন পূর্ববঙ্গে মুসলিম লীগ ১১৯টি আসনের মধ্যে ১১৩টিতে জয় পেয়েছিল। গোটা উপমহাদেশে দলটি আর কোনো প্রদেশে পূর্ববঙ্গের মতো সাফল্য পায়নি। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর পূর্ববঙ্গের মানুষের মধ্যে ছিল বিপুল উচ্ছ্বাস।দোমিনিক লাপিয়ের ও ল্যারি কলিন্সের ফ্রিডম...

১৪ ঘন্টা আগে

Dr.Mahfuzul Alom