জাতীয়

জুলাইয়ের চেতনায় গড়ব দেশ,সবার আগে বাংলাদেশ ০৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক

১ দিন আগে


জুলাইয়ের চেতনায় গড়ব দেশ,সবার আগে বাংলাদেশ ০৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত


একটি বিপ্লব কখনোই আকস্মিকভাবে জন্ম নেয় না। এটি কোনো একদিনের ঘটনা নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা মানুষের বঞ্চনা, ক্ষোভ, অন্যায়, নিপীড়ন ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষার বিস্ফোরিত রূপ। সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মতোই ইতিহাসের অন্তরালে নীরবে জমতে থাকে প্রতিবাদের লাভা, যা একসময় বিস্ফোরিত হয়ে বদলে দেয় একটি জাতির ভাগ্য। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানও ছিল তেমনই এক ঐতিহাসিক বিস্ফোরণ—দীর্ঘ ১৬ বছরের দমন-পীড়ন, বৈষম্য, দুর্নীতি ও গণতন্ত্রহীনতার বিরুদ্ধে জনগণের সম্মিলিত জাগরণের অনিবার্য পরিণতি।

দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এমন এক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল, যেখানে ভয়, নীরবতা এবং নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক পরিবেশই ছিল স্বাভাবিক বাস্তবতা। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই দলীয়করণ ও দুর্নীতির কবলে পড়ে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয় এবং ভিন্নমতের মানুষকে গ্রেপ্তার, গুম, মামলা ও হয়রানির মাধ্যমে দমন করা হয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকেও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দুর্নীতি, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমাগত অবনতির দিকে যেতে থাকে।

এই দমন-পীড়নের শিকার হয়েছিলেন বহু শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও সাধারণ নাগরিক। লেখক নিজেও ছিলেন সেই বাস্তবতার একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী। স্বাধীন মতপ্রকাশের অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদ হারাতে হয় তাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে চাকরিচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে দায়ের করা হয় একের পর এক রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা। মাত্র এক দিনের নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। ক্যানসারে আক্রান্ত স্ত্রী, ছোট্ট সন্তান এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে শুরু হয় এক দীর্ঘ দুর্বিষহ জীবনসংগ্রাম।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সংকটের প্রতিটি অধ্যায়ে যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছে, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাইয়েও আন্দোলনের সূতিকাগার হয়ে ওঠে এই ক্যাম্পাস। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হলেও ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ মন্তব্য আন্দোলনের গতিপথ আমূল বদলে দেয়। কোটা সংস্কারের দাবি মুহূর্তেই আত্মমর্যাদা, নাগরিক অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে রূপ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়ে, আর "তুমি কে, আমি কে—রাজাকার, রাজাকার" স্লোগান হয়ে ওঠে প্রতিরোধের প্রতীক।

১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের নিহত হওয়ার ঘটনা আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দুই হাত প্রসারিত করে নিরস্ত্র অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণের বুকে গুলি—সেই দৃশ্য কোটি মানুষের হৃদয় নাড়িয়ে দেয়। একই দিনে চট্টগ্রামে নিহত হন ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম। এই দুই মৃত্যু আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয় এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।

১৮ জুলাই দেশের প্রায় সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসেন। আন্দোলনে যোগ দেয় ব্র্যাক, নর্থ সাউথ, আইইউবি, এআইইউবি, ইস্ট ওয়েস্টসহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেদিনও গুলিতে প্রাণ হারান অনেক শিক্ষার্থী। বিইউপির শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনকারীদের মাঝে পানি বিতরণ করতে গিয়ে নিহত হন। মানবতার প্রতীক হয়ে ওঠা এই তরুণের আত্মত্যাগ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম উজ্জ্বল স্মৃতি হয়ে আছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার দেশব্যাপী কারফিউ জারি করে, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেয় এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। কিন্তু দমন-পীড়ন আন্দোলনের গতি থামাতে পারেনি। বরং শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক, প্রকৌশলী, শ্রমিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একে একে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। একটি ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।

লেখকের ব্যক্তিগত জীবনও তখন চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। গোয়েন্দা নজরদারি, গ্রেপ্তার ও গুমের আশঙ্কায় তাকে আত্মগোপনে থাকতে হয়। পরিবারের সদস্যদেরও নিরাপত্তার স্বার্থে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আশ্রয় নিতে হয়। অসুস্থ স্ত্রী, ছোট্ট সন্তান, বৃদ্ধ মা—সবার জীবন অনিশ্চয়তায় ঘেরা হয়ে পড়ে। অথচ তার অপরাধ ছিল কেবল স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা।

আগস্টের শুরুতে আন্দোলনের একমাত্র দাবি হয়ে ওঠে—‘এক দফা, এক দাবি, শেখ হাসিনার পদত্যাগ।’ ৫ আগস্ট ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে লাখো মানুষ সমবেত হন। কারফিউ, সাঁজোয়া যান, রাইফেল, কাঁদানে গ্যাস—কোনো কিছুই আর জনস্রোতকে থামাতে পারেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও সেই মিছিলে যোগ দেন। শেষ পর্যন্ত গণভবনের দিকে অগ্রসর হয় জনতা। দুপুরের পর হেলিকপ্টারে দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা, আর পতন ঘটে দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের।

লেখকের ভাষায়, সেই বিজয়ের দিনে ব্যক্তিগত সব কষ্ট যেন মিলেমিশে গিয়েছিল জাতির সম্মিলিত আনন্দে। তিনি বলেন, নিজের আত্মত্যাগের চেয়ে অসংখ্য তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ ছিল অনেক বড়। তারাই খালি বুকে গুলির সামনে দাঁড়িয়ে ইতিহাস লিখেছেন। তাদের রক্ত, সাহস ও আত্মদানের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর নতুন করে আরেকটি গণজাগরণের ইতিহাস রচনা করেছে। তাদের প্রতি জাতির ঋণ চিরকাল অম্লান থাকবে।

 

 


জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আজ থেকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত, প্রথম দিনের ৯০০ টিকিট শেষ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আজ থেকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত, প্রথম দিনের ৯০০ টিকিট শেষ

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আজ (৬ আগস্ট) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জাদুঘরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।জুলাই আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ, শহীদ ও আহতদের স্মৃতি, আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, দলিল, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য সামগ্রী এবং আধুনিক ডিজিটাল প্রদর্শনী নিয়ে সাজানো এই জাদুঘরের...

১ ঘন্টা আগে


জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আজ থেকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আজ থেকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, আত্মত্যাগ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আজ (বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন।জাদুঘরটিতে জুলাই আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ, শহীদ ও আহতদের স্মৃতি, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র, গুরুত্বপূর্ণ দলিল, ব্যক্তিগত ব্যবহার্য...

৫ ঘন্টা আগে


‘জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
‘জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে’—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর ও চেতনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য, সাংবিধানিক সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই।বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে জুলাই শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের পরিবারের সংবর্ধনা এবং...

৫ ঘন্টা আগে


‘ক্রসফায়ারের নামে সাড়ে ৪ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে’—আইনমন্ত্রী
‘ক্রসফায়ারের নামে সাড়ে ৪ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে’—আইনমন্ত্রী

বিগত ১৬ বছরের শাসনামলে ‘ক্রসফায়ারের’ নামে সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সময়ে ৭০০-এর বেশি মানুষ গুম এবং ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর...

১৮ ঘন্টা আগে

Dr.Mahfuzul Alom