নবীজির টুপি ও পাগড়ি: কেমন ছিল কী জানা যায়
দ্যা সিটি সিগন্যাল ডেক্স
ছবি: সংগৃহীত
নবীজি (সা.)-এর জীবন মুমিনের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। ইবাদত-বন্দেগি থেকে পোশাক-পরিচ্ছদ, চলাফেরা ও দৈনন্দিন জীবনের নানা ক্ষেত্রেই তাঁর জীবনে রয়েছে অনুসরণীয় শিক্ষা। রাসুল (সা.) কখনো শুধু টুপি পরতেন, আবার কখনো টুপির ওপর পাগড়িও পরতেন।
নবীজির টুপি কেমন ছিল
বিভিন্ন বর্ণনায় নবীজি (সা.)-এর টুপি ব্যবহারের কথা পাওয়া যায়। এসব বর্ণনা থেকে জানা যায়, তাঁর টুপিতে বৈচিত্র্য ছিল। সাদা রঙের টুপি, ইয়েমেনি কাপড়ের তৈরি টুপি এবং কানযুক্ত টুপির কথাও বিভিন্ন গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। সফরের সময় তিনি কানযুক্ত টুপি ব্যবহার করতেন বলে বর্ণনা রয়েছে।
আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) সাদা রঙের এমন একটি টুপি পরতেন, যা তাঁর মাথার সঙ্গে লেগে থাকত। (সুয়ুতি, জামে আস-সাগির, হাদিস: ৭১৪৯)
এসব বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, নবীজি (সা.)-এর টুপির ধরন ও রঙে বৈচিত্র্য ছিল। তাই নির্দিষ্ট কোনো রং বা নকশার টুপিকে অপরিহার্য মনে করার সুযোগ নেই। তবে সাদা পোশাক পছন্দ করার বিষয়ে পৃথক হাদিস রয়েছে।
টুপির সঙ্গে পাগড়ি
টুপি পরার পাশাপাশি পাগড়ি ব্যবহারের কথাও হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে। মক্কা বিজয়ের দিন নবীজি (সা.) কালো পাগড়ি পরে মক্কায় প্রবেশ করেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৫৮)
আমর ইবনে হুরাইস মাখজুমি (রা.) বলেন, তিনি নবীজি (সা.)-কে মিম্বরের ওপর দেখেছেন। তাঁর মাথায় ছিল কালো পাগড়ি, যার দুই প্রান্ত দুই কাঁধের মাঝখানে ঝুলছিল। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৫৯)
সাহাবিদের আমল থেকেও পাগড়ির নিচে টুপি ব্যবহারের বিষয়টি জানা যায়। প্রথম যুগের কিছু মুহাজিরকে বিভিন্ন রঙের পাগড়ি পরতে দেখা গেছে এবং তাঁরা টুপির ওপর পাগড়ি জড়াতেন বলে বর্ণনা রয়েছে। (আল-মুসান্নাফ লি ইবনি আবি শাইবা, ৮/৩১৩)
সাহাবিদের টুপি
সাহাবিদের মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের টুপি ব্যবহারের প্রচলন ছিল। সাহাবি ওয়াবিসা ইবনে মাবাদ (রা.)-এর মাথায় দুই কানবিশিষ্ট ও মাথার সঙ্গে লেগে থাকা একটি টুপি দেখা গিয়েছিল বলে বর্ণনা রয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৯৪৯)
হাসান বসরি (রহ.)-এর বর্ণনা থেকেও জানা যায়, সাহাবিরা টুপি ও পাগড়ি ব্যবহার করতেন। প্রচণ্ড গরমের সময় কাপড়ের ওপর সিজদা করার প্রসঙ্গে তিনি সাহাবিদের টুপি ও পাগড়ির ওপর সিজদা করার কথা উল্লেখ করেছেন। (সহিহ বুখারি)
পরবর্তী আলেমদের মধ্যেও প্রচলন
তাবেঈ ও পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যেও টুপি ও পাগড়ি ব্যবহারের প্রচলন ছিল। তাবেঈ ইমাম সাইদ ইবনুল মুসাইয়িবের পোশাকের বর্ণনায় এসেছে, তিনি পাতলা টুপি পরার পর তার ওপর সাদা পাগড়ি বাঁধতেন। (ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ৫/১০৫)
আবার কাসিম ইবনে মালিকের বর্ণনায় জাহহাকের মাথায় পশমের টুপি দেখার কথা উল্লেখ রয়েছে। (ইবনে সাদ, আত-তাবাকাতুল কুবরা, ৬/৩০৩)
এসব বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, ইসলামের প্রাথমিক যুগে টুপি পোশাকের একটি পরিচিত অংশ ছিল। সময়ের সঙ্গে এর ধরন, উপকরণ ও নকশায় বৈচিত্র্য এসেছে। কখনো টুপি এককভাবে, আবার কখনো পাগড়ির সঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে।
শিক্ষণীয় বিষয়
নবীজি (সা.) ও সাহাবিদের জীবন থেকে টুপি-পাগড়ি ব্যবহারের বিভিন্ন দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। তবে নির্দিষ্ট কোনো রং, নকশা বা আকৃতির টুপিকে অপরিহার্য মনে করার চেয়ে পোশাকে শালীনতা ও সুন্নতের মূল শিক্ষা অনুসরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের অন্যান্য বিষয়ের মতো পোশাক-পরিচ্ছদের ক্ষেত্রেও মুসলিমদের রয়েছে সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও অনুসরণীয় ইতিহাস।
যে ৮টি গুণ মুমিনের চরিত্রকে সুন্দর করে
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— «صِبْغَةَ اللَّهِ»—অর্থাৎ “আল্লাহর রঙ”।এই স্বর্গীয় রঙে রঙিন হওয়ার অর্থ হলো আল্লাহ তাআলা ও তাঁর প্রিয় রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পছন্দনীয় গুণাবলি নিজের চরিত্রে ধারণ করা।একজন মুমিনের জীবনে যে গুণগুলো বিশেষভাবে থাকা প্রয়োজন—১. তাকওয়া — সর্বাবস্থায় আল্লাহকে ভয় করা এবং তাঁর নির্দেশ মেনে চলা।২. ধৈর্য ও সহনশীলতা —
৫ দিন আগে
শিশুকে আয়াতুল কুরসি শেখানোর গুরুত্ব
শিশুদের ছোটবেলা থেকেই কোরআনের সঙ্গে পরিচিত করে তোলা ইসলামী শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোরআনের ছোট ছোট সুরা ও আয়াত শেখানোর পাশাপাশি আয়াতুল কুরসিও তাদের মুখস্থ করানো যেতে পারে। সুরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াতটি আল্লাহর মহত্ত্ব, ক্ষমতা, জ্ঞান ও কর্তৃত্বের পরিচয় তুলে ধরে। শুধু মুখস্থ করার পরিবর্তে এর অর্থ ও শিক্ষা বুঝিয়ে...
৬ দিন আগে
আজ পবিত্র ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম
আজ ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার পবিত্র রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখ। সুফি অনুসারী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে দিনটি ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’ নামে পরিচিত। কাদেরিয়া সুফি ধারার প্রতিষ্ঠাতা, প্রখ্যাত আলেম ও আধ্যাত্মিক সাধক হজরত শেখ আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর স্মরণে এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, ইসালে সওয়াব ও আলোচনা সভার আয়োজন...
৬ দিন আগে
৭১ বছর বয়সে পুরো কোরআন হিফজ করলেন নিরক্ষর মিসরীয় নারী
পড়তে বা লিখতে জানেন না। ছোটবেলা থেকেই রেডিওতে কোরআন তিলাওয়াত শুনে পবিত্র কোরআনের প্রতি গভীর ভালোবাসা তৈরি হয়। সেই ভালোবাসা থেকেই শুরু করেছিলেন কোরআন মুখস্থ করার চেষ্টা। জীবনের নানা দায়িত্ব ও প্রতিকূলতায় বারবার থেমেছে সেই পথ। তবু হাল ছাড়েননি। অবশেষে ৭১ বছর বয়সে পুরো কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেছেন মিসরের সানা...
৮ দিন আগে
