জেলার খবর

নিমসার কাঁচাবাজারে চাঁদাবাজির মহোৎসব; অভিযোগে বিএনপি-আওয়ামী লীগ-জামায়াতের নেতাকর্মী

অনলাইন ডেস্ক

৩ মাস আগে


নিমসার কাঁচাবাজারে চাঁদাবাজির মহোৎসব; অভিযোগে বিএনপি-আওয়ামী লীগ-জামায়াতের নেতাকর্মী

ছবি: সংগৃহীত


দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কাঁচাবাজার হিসেবে পরিচিত কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নিমসার বাজারে প্রতিদিন কোটি টাকার বেচাকেনার পাশাপাশি চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ। ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, খাজনা ও বিভিন্ন নামে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে আদায় করা হচ্ছে। এ চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি সিন্ডিকেট জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসংলগ্ন শতবর্ষী এই বাজারে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল, ঢাকা এবং উত্তরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতা পণ্য নিয়ে আসেন। উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ১৪৩৩ বাংলা সনের জন্য বাজারটি ৭ কোটি ১৩ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মোকাম ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সফিকুর রহমান ভূঁইয়া ইজারা পান। পরে ভ্যাট ও আয়করসহ মোট ৯ কোটি ৬২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ট্রাকপ্রতি দুই হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়

বাজার কমিটির সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন তিন হাজারের বেশি ক্রেতা-বিক্রেতা বাজারে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, বাজারে পণ্য বিক্রি ও কেনা—উভয় ক্ষেত্রেই খাজনার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। বড় ট্রাক প্রবেশ করলেই দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের কাছ থেকে ভুয়া রসিদ ও নগদ টাকা জব্দ করে।

সরকারি জমি দখল করে আদায় লাখ লাখ টাকা

অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উচ্ছেদ করা সরকারি জমি পুনরায় দখল করে সেখানে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের বিভিন্ন নেতাকর্মীর নাম উঠে এসেছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এক লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করলেই প্রায় আট হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। পাঁচ লাখ টাকার বিক্রিতে আদায় করা হয় ৪০ হাজার টাকা। এসব অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে, যদিও এ দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।

ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ

খুলনা থেকে তরমুজ বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, এক লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করলেও আট হাজার টাকা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে ব্যবসা করা সম্ভব নয়।

টাঙ্গাইলের করলা ব্যবসায়ী ওসমান গনি জানান, প্রতিবার বাজারে এলেই ৪০০ টাকা খাজনা দিতে হয়। টাকা না দিলে পণ্য নামাতে দেওয়া হয় না।

বরুড়া থেকে কচুর লতি বিক্রি করতে আসা মোহন মিয়া বলেন, ৮০ কেজি লতি বিক্রি করলেও প্রতি কেজিতে দুই টাকা হিসেবে খাজনা দিতে হয়।

অতিরিক্ত খাজনার অভিযোগ

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ধনিয়াপাতাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যে সরকারি নির্ধারিত হারের বাইরে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি খুচরা বাজারেও পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে।

প্রশাসনের বক্তব্য

কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, কুমিল্লায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। এ বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, এর আগে চাঁদাবাজির অভিযোগে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। নতুন করে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, উচ্ছেদের পরও অনেকেই আবার সরকারি জমি দখল করেছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অভিযুক্তদের বক্তব্য

জামায়াতের কর্মী হিসেবে পরিচিত জাকির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার দোকানের একটি অংশ সরকারি জমিতে পড়েছে এবং তিনি দোকান ভাড়া দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করেন। কোনো সিন্ডিকেটের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

ইজারাদার সফিকুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ধনিয়াপাতার ক্ষেত্রে বিক্রির মূল্যের ভিত্তিতে খাজনা নেওয়া হয়। কচুর লতির ক্ষেত্রেও নির্ধারিত হারে আদায় করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপির প্রতিক্রিয়া

বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি এটিএম মিজানুর রহমান বলেন, তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল কৃষকের কাছ থেকে খাজনা আদায় বন্ধ করা। কিন্তু বাস্তবে নিমসার বাজারে এখনো কৃষকদের কাছ থেকে খাজনার নামে অর্থ আদায় হচ্ছে। প্রশাসনের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, বাজার থেকে পণ্য বের করার সময়ও বিভিন্ন পয়েন্টে গাড়িপ্রতি ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। তাদের দাবি, বাজারে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে নিত্যপণ্যের দাম কমানো সম্ভব হবে না।


ধলেশ্বরীর ভাঙনে আতঙ্কে ১৫ পরিবার, নদীগর্ভে বসতঘর
ধলেশ্বরীর ভাঙনে আতঙ্কে ১৫ পরিবার, নদীগর্ভে বসতঘর

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ধলেশ্বরী নদীর তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কেয়াইন ইউনিয়নের বড় বর্তা গ্রামের অন্তত ১৫টি পরিবার। এরই মধ্যে একটি বসতঘর আসবাবপত্রসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অন্তত ১৫টি বসতবাড়ি। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আকস্মিক নদীভাঙনে গফুর শেখের টিনের ঘরটি আসবাবপত্রসহ নদীগর্ভে চলে যায়। চোখের সামনে বসতঘর হারিয়ে পরিবারটি অসহায়...

২ দিন আগে


কঙ্গোয় নৌকাডুবিতে ৪১ মৃত্যু, চলছে উদ্ধার অভিযান
কঙ্গোয় নৌকাডুবিতে ৪১ মৃত্যু, চলছে উদ্ধার অভিযান

মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) টাঙ্গানিকা হ্রদে প্রায় ১০০ যাত্রী ও পণ্যবোঝাই একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ৪৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তানজানিয়ার কিগোমা বন্দর থেকে ডিআর কঙ্গোর কালেমি শহরের উদ্দেশে যাত্রা

৫ দিন আগে


দুর্ঘটনায় আহত নির্মাণ শ্রমিক রতন দাসকে আর্থিক সহায়তা
দুর্ঘটনায় আহত নির্মাণ শ্রমিক রতন দাসকে আর্থিক সহায়তা

বাসুদেবপুরে দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত ইমারত নির্মাণ শ্রমিক রতন দাস কে আর্থিক সহায়তা প্রদান নাটোর জেলার নলডাঙ্গা উপজেলার বাসুদেবপুরে দুর্ঘটনাজনিত কারণে আহত ইমারত নির্মাণ শ্রমিক শ্রী রতন দাস কে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে নলডাঙ্গা বাসুদেবপুর শাখা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন।​২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার  রাত ১০টায় বাসুদেবপুর বাজারে অবস্থিত ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের অস্থায়ী...

৭ দিন আগে


মাদক ব্যবসায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে তাবলিগে পাঠালেন ওসি
মাদক ব্যবসায় জড়িত দুই ব্যক্তিকে তাবলিগে পাঠালেন ওসি

চাঁদপুরের কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে পাঠিয়ে সংশোধনের সুযোগ দিয়েছেন।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আকানিয়া-নাছিরপুর গ্রামের জালাল ও হেলালের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা হয়েছে

৮ দিন আগে

Dr.Mahfuzul Alom