শান্তিপূর্ণ ভোটে নতুন দৃষ্টান্ত, দুই দশক পর ক্ষমতায় বিএনপি
ছবি: সংগৃহীত
স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে কয়েকটি ভোট বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সাবেক প্রধান বিচারপতি Shahabuddin Ahmed-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন দীর্ঘদিন সবচেয়ে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। পরে সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সপ্তম ও ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনও তুলনামূলকভাবে অবাধ ও বিতর্কহীন বলে স্বীকৃতি পায়।
এই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন অনেকে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা Muhammad Yunus-এর নেতৃত্বে আয়োজিত এ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও বড় ধরনের সহিংসতামুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।
নজিরবিহীন নিরাপত্তা, সহিংসতামুক্ত ভোট
অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত তৎপরতায় ভোটগ্রহণ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর কঠোর ও নিরপেক্ষ অবস্থান বড় ধরনের গোলযোগ প্রতিরোধে ভূমিকা রেখেছে। সেনাপ্রধান Waker-uz-Zaman-এর নেতৃত্বে মাঠপর্যায়ে জোরালো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ভোটের দিন বড় ধরনের সহিংসতা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দু-একটি কেন্দ্রে সাময়িক বিঘ্ন ছাড়া কোথাও ভোট স্থগিত করতে হয়নি। একটি গুলিও খরচ না করে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হওয়াকে অনেকেই ‘অভূতপূর্ব’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।
ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাস
দীর্ঘ সময় পর জনমতের প্রতিফলন ঘটেছে-এমন প্রত্যাশায় বিপুলসংখ্যক ভোটার কেন্দ্রমুখী হন। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে ভোটের হার ছিল ৬০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ এবং ‘না’ ভোট ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ এ নির্বাচনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রথমবার ভোট দিতে পেরে অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
২১২ আসনে জয়, বিএনপির ভূমিধস প্রত্যাবর্তন
নির্বাচন কমিশন ২৯৭টি আসনের ফল ঘোষণা করেছে। এতে Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি) ও তাদের মিত্ররা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়েছে। বিএনপি এককভাবে পেয়েছে ২০৯টি আসন; জোটসহ মোট আসন দাঁড়িয়েছে ২১২। এটি দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা। এর আগে ২০০১ সালে তারা ১৯৩ আসন পেয়েছিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান Tarique Rahman-এর নেতৃত্বে এ বিজয়কে দলটির ‘ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন’ হিসেবে দেখছেন সমর্থকেরা।
দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে জামায়াত
Bangladesh Jamaat-e-Islami ৬৮টি আসন পেয়ে জাতীয় সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ১৯৯৬ সালের পর এই প্রথম দলটি উল্লেখযোগ্য আসনসংখ্যা নিয়ে সংসদে যাচ্ছে। দলটির আমির Shafiqur Rahman ফলাফল মেনে নেওয়ার ঘোষণা দিলেও কয়েকটি আসনে পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন।
নতুন শক্তি হিসেবে এনসিপি
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে গঠিত National Citizen Party (এনসিপি) প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৬টি আসনে জয় পেয়েছে। জোট রাজনীতির সুবিধা নিয়ে দলটি নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও এ নির্বাচন ইতিবাচকভাবে আলোচিত হয়েছে। CNN ভোটগ্রহণকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত বলে উল্লেখ করেছে। Al Jazeera বলেছে, ফলাফল দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। The Guardian দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এর প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছে। পাকিস্তানের Dawn এবং ভারতের NDTV এ বিজয়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে।
শপথ ও সরকার গঠনের প্রস্তুতি
নির্বাচন কমিশন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নাম গেজেটে প্রকাশ করেছে। সংবিধান অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থায় শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হতে পারে বলে জানা গেছে। ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি শপথের সম্ভাবনা রয়েছে। একই দিনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা শপথ নিতে পারেন।
ত্রয়োদশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। নতুন সরকারের সামনে তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচনের পরবর্তী সহিংসতা দমন, দলীয় কর্মীদের সংযত রাখা, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য মন্ত্রিসভা গঠন এবং সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সহিংসতার অভিযোগ ও সতর্কবার্তা
ফল ঘোষণার পর কয়েকটি জেলায় সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। মুন্সীগঞ্জ, বাগেরহাট, ফেনী, পটুয়াখালী, ফরিদপুর, পাবনা, ঝিনাইদহ, সিরাজগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ঝালকাঠিতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। কিছু স্থানে পরাজিত দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দিয়ে সহনশীলতা ও সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন। অপরদিকে জামায়াত নেতারা নেতাকর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দিলেও হামলা বন্ধ না হলে ‘যথাযথ সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সামনে সংস্কার ও রাজনৈতিক ভারসাম্যের চ্যালেঞ্জ
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়ায় নতুন সরকারের ওপর রাষ্ট্রসংস্কারের চাপ বাড়বে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকারকে শক্তিশালী অবস্থান দিলেও একই সঙ্গে দায়িত্ব ও জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে এনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংসদকে প্রাণবন্ত বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত করা, বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখা এবং ভিন্নমতকে ধারণ করার রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলাই হবে গণতান্ত্রিক উত্তরণের মূল শর্ত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে-এমন মূল্যায়ন যেমন রয়েছে, তেমনি সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। এখন নজর নতুন সরকারের কার্যক্রম ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে।
অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে তারেক রহমানের ভারত সফর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কিছু বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে এসব চ্যালেঞ্জ সমাধানের চেষ্টা চলছে। সফরের সম্ভাবনা নিয়ে সরকার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর
৪৫ মিনিট আগে
কাতারের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, চাপে বাংলাদেশসহ এশিয়ার ক্রেতারা
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশের ক্রেতাদের আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করতে পারবে না কাতার এনার্জি। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সরবরাহে বাধ্যতামূলক পরিস্থিতির (ফোর্স মেজর) নোটিশের মেয়াদ বাড়িয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানিটি।রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের...
৩ ঘন্টা আগে
ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার সুরক্ষায় নতুন কয়েকটি আইন
ন্যায়বিচার, মানবাধিকার সুরক্ষা ও সম্পত্তির অধিকারসংক্রান্ত আইনি কাঠামোয় ২০২৬ সালে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। জাতীয় সংসদে পাস হওয়া নতুন আইনগুলোর মধ্যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং সম্পত্তি হস্তান্তরসংক্রান্ত আইন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। সরকার গঠনের পর বিএনপি সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদের প্রথম কয়েকটি অধিবেশনে শতাধিক আইন পাস হয়েছে বলে...
৬ ঘন্টা আগে
অক্টোবরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সম্মিলন, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত দেশের ২ হাজার ৩১৮টি কলেজের অধ্যক্ষদের নিয়ে আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি ‘অধ্যক্ষ সম্মিলন ২০২৬’ আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ সম্মিলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দপ্তরের পরিচালক মো....
৭ ঘন্টা আগে
