এনসিপি–জামায়াত জোট নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ আব্দুল কাদেরের, ‘তারুণ্যের রাজনীতির কবর রচিত হচ্ছে’
ডেস্ক নিউজ
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য জোটকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জুলাই গনঅভ্যুত্থানে অন্যতম সংগঠক ও ছাত্রনেতা আব্দুল কাদের। তাঁর অভিযোগ, গুটিকয়েক নেতার ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য এনসিপি তারুণ্যের রাজনীতি, লাখো নেতাকর্মীর আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং একটি বিকল্প রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে জলাঞ্জলি দিয়েছে।
আব্দুল কাদের তার একটি ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকালই এনসিপি–জামায়াত জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে, যার মধ্য দিয়ে কার্যত এনসিপি জামায়াতের রাজনৈতিক গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, জোট আলোচনার শুরুতে এনসিপি জামায়াতের কাছে ৫০টি সংসদীয় আসন দাবি করলেও দরকষাকষির শেষ পর্যায়ে তা কমে ৩০টি আসনে চূড়ান্ত হয়েছে। এই সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, এনসিপি বাকি ২৭০টি আসনে কোনো প্রার্থী দিতে পারবে না এবং সেসব আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করতে বাধ্য থাকবে।
আব্দুল কাদের আরও অভিযোগ করেন, জোটের অংশ হিসেবে প্রতি আসনে দেড় কোটি টাকা করে নির্বাচনী ব্যয় জামায়াত এনসিপিকে দেবে—যা রাজনীতিকে আদর্শ থেকে সরিয়ে সরাসরি আর্থিক লেনদেনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রার্থী বাছাই নিয়েও তিনি গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, এনসিপির জন্য বরাদ্দ ৩০টি আসনের প্রার্থী নির্ধারণের ক্ষমতা দলীয়ভাবে নেই; বরং জামায়াতের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী এবং জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের—এই দুইজন মিলেই এনসিপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করবেন। এতে এনসিপির রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য পুরোপুরি হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সবচেয়ে বিস্ময়কর অভিযোগ হিসেবে আব্দুল কাদের বলেন, তথাকথিত ‘ছোটন গং’-এর সঙ্গে নাহিদ ইসলামের আরও এক ধাপ অগ্রসর সমঝোতা হয়েছে। তাঁর ভাষ্যমতে, পশ্চিমা শক্তিগুলো প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে জামায়াতকে দেখতে চায় না—এই যুক্তিতে সমঝোতার একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সে অনুযায়ী, নির্বাচনে জোট ক্ষমতায় গেলে নাহিদ ইসলাম প্রধানমন্ত্রী, আর বিরোধী দলে গেলে নাহিদ ইসলাম বিরোধী দলীয় নেতা হবেন—এমন সমঝোতা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আব্দুল কাদের বলেন,
“এতো এতো তরুণ নিজেদের গুছানো ক্যারিয়ার, পরিবার-পরিজন ও নিরাপদ জীবন ছেড়ে দেশের হাল ধরতে এসেছিল। তারা একটি নতুন রাজনৈতিক স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু নাহিদ ইসলাম ও তার ঘনিষ্ঠরা গতকাল রাতে গিয়ে সেই স্বপ্নকে মাটিচাপা দিয়ে এসেছেন।”
এ বিষয়ে এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এই অভিযোগ ঘিরে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

