রাজনীতি

কাজ শেষ হয়নি, আবার যুবক হয়ে লড়াইয়ে নামতে হবে: জামায়াত আমির

অনলাইন ডেস্ক

৩ মাস আগে


{news.title}

ছবি: সংগৃহীত


বাংলাদেশকে নতুন পথে এগিয়ে নিতে আবারও যুবক হয়ে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, স্বৈরাচার বিদায় নিলেও স্বৈরাচারী মানসিকতা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। সেই মানসিকতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এর সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের মধ্যে নতুন করে আশা জেগেছে—আমরা সবাই মিলে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারবো। বিদেশে গেলে আমরা বলি, আমাদের দুই ধরনের রেমিট্যান্স দরকার—একটি অর্থনৈতিক, আরেকটি বুদ্ধিবৃত্তিক। বাংলাদেশ ভালো না থাকলে আমরা কেউ ভালো থাকতে পারবো না।”

বিশ্ব পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “বিশ্বের সব দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, অথচ আমরা অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছি। তরুণদের উদ্দেশে বলছি—তোমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। তোমরা স্বৈরাচার সরিয়েছ, কিন্তু স্বৈরাচারী মানসিকতা এখনো রয়ে গেছে।”

শিক্ষা ও বিচারব্যবস্থায় মৌলিক সংস্কারের অঙ্গীকার

জামায়াত সরকার গঠন করলে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থা নৈতিকতাভিত্তিক ও পেশাদার মানসম্পন্ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষার লক্ষ্য স্পষ্ট থাকতে হবে। সত্যিকারের শিক্ষা বাস্তবায়ন করতে পারলে সমাজ থেকে অনেক অন্যায় দূর হয়ে যাবে।”

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে জামায়াত আমির বলেন, “বিচার হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। কোনো ব্যক্তির প্রভাব, ক্ষমতা বা অবস্থান দেখে বিচার করা হবে না। এমন একটি বিচারব্যবস্থা আমরা নিশ্চিত করতে চাই।”

অর্থনীতি, করনীতি ও শিল্পখাতে পরিকল্পনা

দিনভর অনুষ্ঠিত পলিসি সামিটে জামায়াতের বিভিন্ন নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন প্যানেলিস্টরা। এ সময় জানানো হয়, সরকার গঠন করলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জানানো হয়, দীর্ঘমেয়াদে ট্যাক্সের হার ১৯ শতাংশ এবং ভ্যাট ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা একত্র করে ‘স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড’ চালু করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়।

আগামী তিন বছরে সব শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ বাড়ানো হবে না উল্লেখ করে জানানো হয়, বন্ধ কলকারখানা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে চালু করা হবে এবং শ্রমিকদের জন্য ১০ শতাংশ মালিকানা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে ব্যবসাবান্ধব নীতি, সহজ লাইসেন্সিং ব্যবস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধার কথাও জানানো হয়।

রেমিট্যান্স ও ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’

রেমিট্যান্স প্রসঙ্গে জামায়াত জানায়, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে আগামী ৫ থেকে ৭ বছরের মধ্যে রেমিট্যান্স আয় দুই থেকে তিনগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবী, গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স’ কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের ব্যাপক উপস্থিতি

পলিসি সামিটে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনীতিক ছাড়াও রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্সসহ বহু দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ, ইউএনডিপি এবং আইআরআইয়ের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

জামায়াতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, মাওলানা আ.ন.ম. শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য ও উপস্থিতি দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সিনিয়র আইনজীবী শাহদীন মালিক, প্রবীণ সম্পাদক মাহফুজ আনাম, আবুল আসাদসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা।

বারিস্তা কফি,ফাস্ট ফুড এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ ট্রেনিং সেন্টার (বিএফএলটিসি)
Dr.Mahfuzul Alom